logo

কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনায় মোদির নিন্দা

কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনায় মোদির নিন্দা

কাতারের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি’র সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তিনি সংহতি প্রকাশ করেন এবং কাতারের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মোদি বলেন, তিনি কাতারের আমিরের সঙ্গে কথা বলে তাকে ও দেশটির জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, এই কঠিন সময়ে কাতারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন।

মোদি আরও জানান, কাতারে অবস্থানরত ভারতীয়দের প্রতি যে সহায়তা ও যত্ন নেওয়া হচ্ছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাবে ইরান কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে পাল্টা হামলা চালায়—যা বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কাতার সরকার এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, হামলার ফলে দেশটির প্রায় ১৭ শতাংশ এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, কাতারের ১৪টি এলএনজি উৎপাদন ইউনিটের মধ্যে দুটি এবং দুটি গ্যাস-টু-লিকুইড (জিটিএল) স্থাপনার একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বছরে প্রায় ১২.৮ মিলিয়ন টন এলএনজি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে কাতার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বেসামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।