logo

এশিয়ায় তেলের দাম স্থিতিশীল

এশিয়ায় তেলের দাম স্থিতিশীল

ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দামে তীব্র ওঠানামা হয়েছে। তবে বুধবার (১১ মার্চ) সকালে এশিয়ায় তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গত সোমবার তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলারে উঠেছিল। এখন তা কিছুটা কমেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ৩৫ ডলার (৬২ দশমিক ছয় পাউন্ড)। আর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৮৭ দশমিক ৮৮ ডলার। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনও তেলের দাম অনেক বেশি।

দাম কমাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্য দেশগুলো তেলের মজুত ছাড়ার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এ অবস্থায় এশিয়াসহ অন্যান্য মহাদেশেও জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি এটি একটি সংকীর্ণ কৌশলগত পথ। এর প্রস্থ মাত্র ৩৪ কিলোমিটার, যার এক পাশের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে। কুয়েত, ইরাক, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে এই পথ দিয়েই যেতে হয়। উপসাগর থেকে বের হওয়ার জন্য এটিই তাদের একমাত্র সমুদ্রপথ। ফলে ইরানের হাতে এখানে উল্লেখযোগ্য কৌশলগত প্রভাব রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র অনেকবার বলেছে যে তারা ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছে বা প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল হুমকির মুখে ফেলতে ইরানের প্রচলিত যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজন নেই। তারা ছোট সাবমেরিন বা দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করেও এটি করতে পারে। 

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। জাহাজে হামলা ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার ফলে অনেক জাহাজের মালিক ঝুঁকি না নিয়ে হরমুজ প্রণালির প্রান্তে জাহাজ নোঙর করে যুদ্ধ থামার অপেক্ষা করছে। ফলে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। সরবরাহ কমে গেলে এবং চাহিদা বাড়তে থাকলে দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। যার প্রভাব পড়ে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।

কার্বনচেইনের সরবরাহ শৃঙ্খলবিষয়ক বিশ্লেষক ইসমাইল জাবিয়েভ আলজাজিরাকে বলেন, ‘মূল বিষয়টি হলো ঝুঁকি। হরমুজ প্রণালি ও সস্তা ড্রোনের কথা ভাবুন। এখানে প্রত্যক্ষ অবরোধ নেই। ইরান সমুদ্রের ওপর দেয়াল তোলেনি। কিন্তু ঝুঁকি রয়েছে। সব ড্রোন ঘাঁটি ধ্বংস হলেও গোপনভাবে ড্রোন হামলা চালানো সম্ভব। তাই সংঘাত চলতে থাকলে সরবরাহ ব্যাহত হবেই।’

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে তেল যায়, তার প্রায় ৮৯ শতাংশই এশিয়ার বাজারে পৌঁছে। প্রধান ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকে, তবে উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পথে তেল রপ্তানি করার চেষ্টা করবে। কিন্তু সেই সুযোগ সীমিত। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরামকোর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরকে সংযুক্ত করে, যা হরমুজ প্রণালি এড়ানোর অন্যতম পথ। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরব যে ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল, তার মধ্যে প্রায় ৬ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ব্যারেলই এই প্রণালি দিয়ে গেছে।

স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যাভেকাল রিসার্চের হিসাব অনুযায়ী, উপসাগরীয় রপ্তানিকারক দেশগুলো সর্বোচ্চ অতিরিক্ত ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল অন্যপথে পরিবহন করতে পারবে। কিন্তু তবুও যদি বেশির ভাগ ট্যাংকার চলাচল বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।