logo

পা ছুঁয়ে সালাম করলেন মোদি, কে এই ৯৮ বছরের বৃদ্ধ

পা ছুঁয়ে সালাম করলেন মোদি, কে এই ৯৮ বছরের বৃদ্ধ
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও অংশ নেন। এ সময় ৯৮ বছর বয়সি এক বৃদ্ধের পা ছুঁয়ে সালাম করতে দেখা যায় তাকে। শুধু মোদিই নন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারীও একইভাবে সম্মান জানান তাকে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন জেগেছে, অশীতিপর এই বৃদ্ধ কে, আর কেন তারা তার পা ছুঁয়ে সালাম করলেন।

শনিবার (৯ মে) সকালে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই উপস্থিত হন ৯৮ বছর বয়সি মাখনলাল সরকার। তিনি বিজেপির পূর্ববর্তী সংগঠন জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সঙ্গী। এদিন ব্রিগেডে মাখনলালকে শাল পরিয়ে বরণ করে নেন নরেন্দ্র মোদি। পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেন। তারপর মাখনলালকে আলিঙ্গন করতেও দেখা যায় মোদিকে।

পরে মাখনলালকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে তিনি লেখেন, ‘শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মাখনলাল সরকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হলো। উনি নিবেদিত জাতীয়তাবাদী মানুষ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছিলেন এবং জম্মু ও কাশ্মীরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। উনি আমাদের দলের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে আমাদের সংগঠনকে প্রসারিত করেছেন এবং মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।’

মাখনলালকে সালাম করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। মাখনলালের পরিচয় বর্ণনা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদের রাজনৈতিক সঙ্গী ছিলেন মাখনলাল। দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য কংগ্রেস আমলে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল দিল্লি পুলিশ। তাকে আদালতে নিয়ে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি।

শমীকের ভাষ্য, ‘মাখনলাল আদালতে বলেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। কেবল একটি গান গেয়েছেন। বিচারক তাকে গানটি গেয়ে শোনাতে বলেন। আদালতেই মাখনলাল গানটি গেয়ে শোনান। তারপরেই বিচারক পুলিশকে নির্দেশ দেন যে, ট্রেনের একটি ফার্স্ট ক্লাস টিকিট দিয়ে মাখনলালকে বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে এবং যাতায়াত বাবদ ১০০ টাকা দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাখনলাল সরকার হলেন এমন একজন, যিনি ১৯৫২ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কাশ্মীর যাত্রার সঙ্গী ছিলেন। সেই যাত্রায় আর যারা ছিলেন, তাদের কেউ এখন আর বেঁচে নেই। তাই আজ যখন শ‍্যামাপ্রসাদের মাটিতে শ‍্যামাপ্রসাদের আদর্শের অনুসারী সরকার তৈরি হলো, তখন মাখনলাল সরকারকে মঞ্চে রাখা হলো।’

৯৭ বছর বয়সি মাখনলাল ১৯৪৫ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত। ১৯৫২ সালে কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাকে। তিনি শিলিগুড়ির দাগ গ্রামের বাসিন্দা। মাখনলালকে শিলিগুড়ির প্রথম সাংগঠনিক সভাপতি করেছিল বিজেপি। ১৯৮০ সালে বিজেপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে পশ্চিম দিনাজপুর (বর্তমান উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর), জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিংয়ের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী করে বিজেপি। ১৯৮১ সালের পর টানা সাত বছর জেলা সভাপতি পদে ছিলেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি