আসামে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, প্রাণহানি বেড়ে ৪১

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে গত ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নিয়েছে চলতি মৌসুমি বন্যা। এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট এই প্রলয়ংকর বন্যায় রাজ্যজুড়ে অন্তত ৪১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনের বরাতে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এএসডিএমএ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের পাঁচটি পৃথক জেলায় বানের পানিতে ডুবে নতুন করে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলমান বন্যায় রাজ্যজুড়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে গিয়ে পৌঁছাল। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে রাজ্যের শিবসাগর, চরাইদেও ও জোরহাট জেলা।
মেঘ বিস্ফোরণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে পার্শ্ববর্তী নাগাল্যান্ড রাজ্যের সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা থেকে নতুন করে এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করে। এর ফলে রাজ্যজুড়ে ৯৩৯টিরও বেশি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি।
দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও এনডিআরএফ (জাতীয় দুর্যোগ প্রাক্কলন বাহিনী)। উদ্ধারকাজে দুর্গম স্থানে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী পৌঁছাতে ব্যবহার করা হচ্ছে স্পিডবোট এবং ড্রোন।
বন্যাদুর্গত বিভিন্ন জেলা সরেজমিনে পরিদর্শন করে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মন্তব্য করেছেন যে, ক্ষয়ক্ষতির এই বিশাল মাত্রা স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণার বাইরে। বানের পানি না নামা পর্যন্ত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের সকল সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকে মাঠে সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) গুয়াহাটিসহ আসামের বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী চার দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
.png)






