অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীর

অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলোতে গাজার বেইত হানুনের মতো ধ্বংসাত্মক সামরিক নীতি প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলিদের ওপর হামলাকারী ফিলিস্তিনিদের গ্রাম ও শহরগুলোর সঙ্গে ‘গাজার বেইত হানুনের মতো আচরণ করা উচিত’।
উগ্রপন্থি এই মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি দাবি জানাব যেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ফিলিস্তিনি এবং তাদের সমর্থকদের বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস করার নির্দেশ দেয়। প্রতিটি ইহুদি হত্যার জন্য শত্রুপক্ষকে তাদের জমি ও ঘরবাড়ি হারিয়ে মাশুল দিতে হবে।’
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত তেল গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের যৌথ হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। বেন-গভিরের এই উসকানিমূলক মন্তব্যটি ওই হত্যাকাণ্ডের পরপরই সামনে আসে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, অবৈধ হাভাত গিলাদ বসতির কাছে এক গোলাগুলির ঘটনায় এক বসতি স্থাপনকারী নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও দখলদারদের হামলায় অন্তত ৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জন সরাসরি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা ও অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, এ পর্যন্ত সেখানে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রায় ২৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু, আরব নিউজ, মিডল ইস্ট আই
.png)





