ইরান যুদ্ধ উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু শক্তি বাড়াতে মরিয়া করবে: বিশেষজ্ঞ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা পিয়ংইয়ংকে তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও শক্তিশালী করার দিকে ধাবিত করতে পারে, একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভবিষ্যত আলোচনার কৌশলও পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে কিম জং উনের নেতৃত্ব।
বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তাদের বরাতে আরব নিউজ জানায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরও জোরদার করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় ফিরবেন কি না, তা নতুন করে বিবেচনা করতে পারেন।
২০১৮ ও ২০১৯ সালে কিম ও ট্রাম্পের মধ্যে একাধিক শীর্ষ বৈঠক হলেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলা পিয়ংইয়ংকে তার নিরাপত্তা কৌশল নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ডেজিওন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা সং সিওং-জং বলেন, ‘কিম নিশ্চয়ই দেখেছেন, ইরানের ওপর এভাবে হামলা হয়েছে কারণ তাদের পারমাণবিক অস্ত্র নেই।’ তার মতে, এই বার্তা উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক সক্ষমতা ধরে রাখতে আরও অনুপ্রাণিত করতে পারে।
গত রোববার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের ‘আধিপত্যবাদী ও দুর্বৃত্ত’ আচরণের সমালোচনা করে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সামরিক প্রস্তুতি অনিবার্য’।
হামলার কয়েক দিন আগে ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসে কিম আরও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অঙ্গীকার করেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও জানান।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ কিমের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থাকে সম্মান করে এবং বৈরী নীতি প্রত্যাহার করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক না রাখার কোনো কারণ নেই।’