বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটকের দাবি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকার

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটকের দাবি করেছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি শনিবার (৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কয়েকজন মার্কিন সেনা আমাদের হাতে বন্দি হয়েছে। তবে আটক এসব সেনাকে যুক্তরাষ্ট্র ‘নিহত’ বলে প্রচার করে প্রকৃত ঘটনা গোপন করছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে করা এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
লারিজানি লিখেছেন, ‘কয়েকজন মার্কিন সেনাকে বন্দি করা হয়েছে। কিন্তু আমেরিকানরা বলছে, তারা যুদ্ধে নিহত হয়েছে। সত্যকে তারা বেশি দিন লুকিয়ে রাখতে পারবে না।’
তবে লারিজানির পোস্ট আসার সঙ্গে সঙ্গেই তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বার্তা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ‘ইরানি শাসনব্যবস্থা মিথ্যা প্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য যেকোনো কিছুই করতে পারে। এটি তারই একটি উদাহরণ।’
একই ধরনের মন্তব্য করেছে সেন্টকম। সংস্থাটির এক মুখপাত্র আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইরানের মার্কিন সেনা আটক করার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১ মার্চ কুয়েতের একটি বন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। তাদের মরদেহ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত নেয়া হয়। পরে এক অনুষ্ঠানে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ট্রাম্প।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংঘাতে প্রায় ১ হাজার ৩৩২ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮০ জন শিশু। নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওই স্কুলে হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্রের। তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি যা দেখেছি, তাতে মনে হয় এটি ইরানই করেছে।’