‘মজা করে’ আরও কয়েকবার খারগ দ্বীপে হামলা চালাতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, স্রেফ ‘মজা’ করার জন্য খারগ দ্বীপে আরও কয়েকবার হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় খারগ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলোর বড় একটি অংশ ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
শনিবার (১৪ মার্চ) ইরানের অর্থনীতির কণ্ঠনালি খ্যাত দ্বীপটিতে হামলা চালানোর পর সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বাধা দিলে তবে দ্বীপটিতে আরও কঠোর হামলা হতে পারে।
একদিকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি রক্ষায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে তেহরান তার পাল্টা জবাব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এর আগে ট্রাম্প কেবল সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা বললেও এখন সরাসরি জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলছেন। ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী পদক্ষেপ যুদ্ধের ভয়াবহতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি রোববার (১৫ মার্চ) সিবিএস নিউজকে বলেন, এটি একটি অবৈধ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল ‘মজা’ করার জন্য নিরপরাধ মানুষ মারতে চাইছেন। ইরানের কোনো জ্বালানি বা অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা হলে তেহরান তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।
এদিকে হামলার পর ইরান দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপটিতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং অঞ্চলের তিনটি মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
আব্বাস আরাঘছি বলেন, আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ এবং দুবাইয়ের অত্যন্ত নিকটবর্তী একটি স্থান থেকে হামলা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ইরান এর জবাব কঠোরভাবে দেবে।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ জানিয়েছেন, তাদের দেশ আত্মরক্ষার অধিকার রাখলেও বর্তমানে সর্বোচ্চ ‘সংযদম’ প্রদর্শন করছে এবং যুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে, তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তিনটি মার্কিন ঘাঁটিতে সফলভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির মতে, এটি শনিবার ইসফাহানের একটি কারখানায় মার্কিন হামলায় ১৫ জন শ্রমিক নিহতের ঘটনার প্রতিশোধের ‘প্রথম দফা’ মাত্র।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি হামলার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেলের বাজারে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বর্তমানে ওিই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে ইতিহাসের বৃহত্তম বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো গভীর উদ্বেগের মধ্যে পড়েছে।