logo

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা
উজবেকিস্তানের রাজধানীর একটি ঈদের জামাত। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। বুধবার (২৭ মে) সকালে মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানি করছেন। পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, লেবানন, ইরান, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের অনেক দেশেও পালিত হচ্ছে এই উৎসব। ত্যাগের বার্তা নিয়ে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।

প্রতি বছর আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখ বিশ্বজুড়ে ইসলাম ধর্মের দ্বিতীয় উৎসব ঈদুল আজহা পালন করেন মুসলিমরা। আরবি বর্ষপঞ্জি চাঁদ-নির্ভর হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদুল আজহার উদযাপনে একদিন তারতম্য হয়। সে হিসাবে আগামীকাল (২৮ মে) বাংলাদেশ ও ভারতে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে যাচ্ছে।

সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, তুরস্কে দেশজুড়ে মসজিদগুলোতে সকালে নামাজের মাধ্যমে ঈদুল আজহা উদযাপন শুরু হয়েছে। ইস্তাম্বুলের হাজিয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদ ও সুলতান আহমেদ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য স্থানীয় এবং বিদেশি পর্যটকসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ সমবেত হন।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর মসজিদগুলোতে মুসল্লিরা নিজেদের দেশ এবং বৃহত্তর ইসলামী বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় প্রার্থনা করতে সমবেত হয়েছিলেন। কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানসহ মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে মুসলমানরা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন।

এ ছাড়াও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, ক্রোয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, আলবেনিয়া ও কসোভোসহ বলকান দেশগুলোর মুসলমানরাও উৎসাহের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন।

পবিত্র মসজিদ আল-আকসায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মুসল্লিরা সমবেত হয়ে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। যদিও ইসরায়েলি দলখদার বাহিনী মসজিদটিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ইব্রাহিমি মসজিদের নামাজে অংশ নেওয়ার সময় বাধার সম্মুখীন হন ফিলিস্তিনিরা।

ইসলাম ধর্মানুসারীদের প্রাণকেন্দ্র সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা বুধবার উদযাপিত হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে পালন এ উৎসব করবেন।

আগের দিন জিলহজ মাসের ৯ম দিনে ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই সাদা ইহরাম পরিহিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৫০টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করবেন হাজিরা। কোরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে চেয়েছিলেন। ওই অনন্য ঘটনার স্মরণেই ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির এ রেওয়াজ চালু হয়। মহান আল্লাহপাকের প্রতি আনুগত্য এবং তারই রাহে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এ ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বে কোরবানি ও ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে।