logo

ইসরায়েলি হামলায় হামাসের সামরিক শাখার প্রধান নিহত

ইসরায়েলি হামলায় হামাসের সামরিক শাখার প্রধান নিহত
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আদ-দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের হামলায় তিনি প্রাণ হারান বলে ইসরায়েল দাবি করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, হামাসও তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

শনিবার (১৬ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইডিএফ চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়ার জামির এই অভিযানকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অভিযানিক সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

জামির বলেন, ‘ফিরে আসা জিম্মিদের সঙ্গে কথা বলার সময় বারবার ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদের নাম উঠে এসেছে। তিনি ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং হামাসের সামরিক শাখার শীর্ষ নেতা ছিলেন। আজ আমরা তাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন, ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ জায়নবাদী ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন। তবে হামাস প্রকাশ্যে হাদ্দাদের মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার মধ্য গাজার আল আকসা শহীদ মসজিদে হাদ্দাদ, তার স্ত্রী ও ১৯ বছর বয়সী মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে হাদ্দাদের স্ত্রী-সন্তান কীভাবে মারা গেছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, ইসরায়েল শুক্রবার গাজায় অন্তত দুটি হামলা চালিয়েছে। এতে তিন নারী ও এক শিশুসহ সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সঙ্গে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, আইডিএফ হামাস নেতাকে লক্ষ্য করে একটি বিমান হামলা চালিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ‘সন্ত্রাসীদের’ চালানো হামলার অন্যতম রূপকার ছিলেন হাদ্দাদ।

তারা আরও বলেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ইসরায়েলের হামলায় মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর গাজায় হামাসের সামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন হাদ্দাদ। তিনি ‘হাজার হাজার ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক, সৈন্যদের হত্যা, অপহরণ এবং তাদের ওপর চালানো ক্ষতির জন্য দায়ী’।

হামাস সূত্রমতে, ‘ভূত’ নামে পরিচিত হাদ্দাদ ইসরায়েলের একাধিক গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তিনি হামাসের অন্যতম দীর্ঘকালীন কমান্ডার ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে হামাস প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে বেশ কয়েকটি উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন।