ইতিবাচক পরিবেশে ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ গড়াল দ্বিতীয় দিনে

বহুল প্রতিক্ষীত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক ম্যারাথন আলোচনা প্রথম পর্বে ইতিবাচক পরিবেশে শেষ হয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই শান্তি আলোচনার সময়সীমা আরও এক দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে রোববারও (১২ এপ্রিল) চলবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ঐতিহাসিক এই আলোচনা। ইতোমধ্যে শান্তি আলোচনাটি ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ইরানি সূত্রগুলোর বরাতে জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৪ ঘণ্টার আলোচনার পর এখন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে খসড়া বিনিময় করছে। অনেকেই এতে আশা করছেন, দুই পক্ষই একটি বৃহত্তর কাঠামোর বিষয়ে ইতোমধ্যে একমত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এখন পরবর্তী পদক্ষেপের বিস্তারিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন।
গত ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রথমে ইরানি প্রতিনিধিদল ও পরে মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়। এরপর আয়োজক পাকিস্তান দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ সরাসরি আলোচনায় বসে।
এদিকে ইরান তাদের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আগের অবস্থানেই অনড় ছিল। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরই ইরান আলোচনার টেবিলে অংশ নিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে সম্মত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
মধ্য ইসলামাবাদের বিলাসবহুল পাঁচ তারকা সেরেনা হোটেলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। আর আলোচনা কক্ষ থেকে খুব সামান্য তথ্যই বাইরে এসেছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারাও নিরপেক্ষা বজায় রাখাতে ও আলোচনা সফল করতে গোপনীয়তা রক্ষা করে চলছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিদেশি গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়।
তবে সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে বোঝা যাচ্ছে, আলোচনার প্রক্রিয়ায় নানা চড়াই-উতরাই থাকলেও সামগ্রিক পরিবেশ ছিল ইতিবাচক।
অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি জেনারেল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জাহিদ মাহমুদ বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি পথ খুঁজছে। কিন্তু আত্মসম্মান ও কৌশলগত স্বার্থের ভারে তারা এখনও জর্জরিত। ভালো ব্যাপার হলো, উভয় পক্ষই একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। তারা একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখছে, একাধিক বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পারমাণবিক কর্মসূচি একটি বড় ও কৌশলগত বিষয়। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনীগুলোও আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে।