logo

ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের ১৫ শর্তে যা যা আছে

ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের ১৫ শর্তে যা যা আছে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস ও ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২। 

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা কমানো এবং চলমান সংঘাতের একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা।

যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবু কূটনৈতিক পর্যায়ে সক্রিয় যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার পথ খোলা রাখতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনায় নিচের দাবিগুলো উল্লেখ করা রয়েছে—

১. ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার জন্য ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি।

২. পারমাণবিক সক্ষমতা বন্ধ: ইরানের বর্তমান পারমাণবিক সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট সব অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা।

৩. স্থাপনা অকেজো করা: নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোর পারমাণবিক স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ ও ধ্বংস করা।

৪. সমৃদ্ধকরণে নিষেধাজ্ঞা: ইরানের মাটিতে কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করার স্থায়ী অঙ্গীকার।

৫. ইউরেনিয়াম হস্তান্তর: ইরানে মজুত সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কাছে হস্তান্তর।

৬. পরমাণু অস্ত্র না তৈরির অঙ্গীকার: ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংরক্ষণ করবে না—এমন স্থায়ী ও সুদৃঢ় নিশ্চয়তা।

৭. আইএইএর তদারকি: তদারকির জন্য ইরানের সব স্থাপনা ও নথিপত্রে আইএইএকে অবাধ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।

৮. প্রক্সি গ্রুপকে সহযোগিতা না করা: আঞ্চলিক প্রক্সি গ্রুপ (হিজবুল্লাহ, হামাস ও অন্যান্য) গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করা।

৯. তহবিল বন্ধ: হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ ও নির্দেশনা দেওয়া বন্ধ করা।

১০. হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ: আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেওয়া।

১১. ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা: ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লার ওপর সীমা নির্ধারণ।

১২. আত্মরক্ষা নীতি: ভবিষ্যতে যে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার শুধু আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি।

১৩. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: শর্ত পালনের বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত সব আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

১৪. বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তা: বুশেহর কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক তদারকিতে বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তা প্রদান।

১৫. স্ন্যাপব্যাক ব্যবস্থা বাতিল: পূর্ববর্তী শর্ত লঙ্ঘনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা ফেরার যে ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা ছিল, তা বাতিল করা।