ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে আল-আকসায় ৬৫ হাজার মুসল্লির নামাজ

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও বাধা সত্ত্বেও অধিৃকত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসিজদে ৬৫ হাজারের বেশি মুসল্লি একত্রে জুমার নামাজ আদায় করেছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর থেকেই পবিত্র মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মুসল্লি জড়ো হতে শুরু করেন। তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। কিন্তু সেই বাধা উপেক্ষা করেছেন মুসল্লিরা।
দুপুরে সবাই কাতারবন্দি হয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন। এ সময় সমবেত হওয়া মুসল্লিদের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে আল-আকসা মসজিদ তত্ত্বাবধানকারী সংস্থাটি।
সংবাদ সংস্থা সানার তথ্যমতে, জুমার নামাজের আগে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান রোমান গোফম্যান আল-আকসা মসজিদের পাশের পশ্চিম প্রাচীর (আল-বুরাক প্রাচীর) এলাকায় প্রবেশ করেন। এবং সেখানে কিছু ধর্মীয় আচার পালন করেন।
এদিকে গত তিন বছর ধরে ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের অবাধে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করা ও নামাজ আদায়ে বাধা দিয়ে আসছে।
কিছু কঠোরপন্থি ‘টেম্পল’ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আল-আকসা মসজিদে বড় ধরনের প্রবেশের আহ্বান বা উসকানি বাড়লেও ফিলিস্তিনিরা নিয়মিতভাবে আল-আকসা মসজিদের দিকে সমাবেশ ও যাতায়াত অব্যাহত রেখেছে।
এর আগে, গত ২৭ মে ইসরায়েলি বাধা সত্ত্বেও আল-আকসা মজিদ প্রাঙ্গণে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনিরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ঈদের আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে অভিযান চালিয়ে দোকান মালিকদের ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য করেছে।
ফিলিস্তিনি সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতনের কিছু অংশ কেটে দেওয়ার পরও, ঈদুল আজহার ছুটির কেনাকাটায় মানুষ শহরের বাজার ও কেন্দ্রগুলোতে অনেক ভিড় করছিল। ঠিক এই ব্যস্ত সময়েই অভিযানগুলো চালানো হয়।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, কঠোর ইসরায়েলি বিধিনিষেধের মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে সীমিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মসজিদের ফটকগুলো বন্ধ করে দেয় এবং প্রবেশপথে মুসল্লিদের তল্লাশি করে। এর ফলে মসজিদে ঢুকতে দেরি হওয়ায় অনেকে অন্য মসজিদে যেতে বাধ্য হন।



