logo
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত

এবার পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে শান্তি সংলাপের মধ্যস্থতায় কাতার

এবার পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে শান্তি সংলাপের মধ্যস্থতায় কাতার
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজায় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিয়ে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গ্যাস মজুতকারী দেশ কাতার। ভৌগোলিক আকারের দিক থেকে ছোট দেশটি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অপরিহার্য ও নিরাপদ রাখতে মধ্যস্থতাকারীর নীতি গ্রহণ করেছে।

সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাতারের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও বিশ্বস্ততা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সুনামের ধারা বজায় রাখতে এবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে সমঝোতা করতে উদ্যোগ নিল কাতার।

ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া শিয়া অধ্যুষিত ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলের আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে শান্তি সংলাপের আয়োজন করেছিল পাকিস্তান। প্রথম দফার আলোচনা প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ ছিল।

কিন্তু সেই আলোচনা কার্যত কোনো ফল আনতে পারেনি। পরে দ্বিতীয় দফার আয়োজন করলেও ইরানকে আলোচনার টেবিল পর্যন্ত টেনে নিতে পারেনি ইসলামাবাদ। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে প্রাসঙ্গিক করে তোলেন।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ট সম্পর্ক ইরানকে দ্বিধাগ্রস্ত করে রেখেছে। বিধায় এখন পর্যন্ত উভয়পক্ষকে কোনো চুক্তি সম্মত করতে পারেনি পাকিস্তান। তারা চেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুর্নব্যক্ত করেছে।

সম্প্রতি তেহরান সফর করেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার সফর সমাপ্ত হওয়ার আগেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আল-আনসারি জানিয়েছেন, আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ ও যুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ‘চলমান’ রয়েছে।

তিনি বলেন, পক্ষগুলোকে একত্রিত করে একটি সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের যে আন্তরিকতা দেখা গেছে, আমরা তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। আমরা বিশ্বাস করি, এ জন্য আরও সময় প্রয়োজন। ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে’।

কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করার ট্রাম্পের ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এর মানে হলো এটি একটি ভালো জবাব’।

তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে আল-আনসারি বলেন, কাতার যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং দুই দেশের মধ্যে ‘ইতিবাচক সম্পর্ক’ রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ইরান কাতারকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এটি উভয় দেশের সম্পর্কের জন্য একটি হুমকি।

সূত্র: আলজাজিরা