logo

হার না মানলে ইরানে আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

হার না মানলে ইরানে আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান যদি তাদের ‘সামরিক পরাজয়’ মেনে না নেয় এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে না দাঁড়ায়, তবে তাদের ওপর আগে কখনও দেখেনি এমন ভয়াবহ হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। 

বুধবার (২৫ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট কঠোর ভাষায় তেহরানকে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ফাঁকা বুলি দেন না এবং তিনি নরক গুলজার করতে প্রস্তুত। ইরানের উচিত হবে না পুনরায় ভুল হিসাব-নিকাশ করা।

তিনি আরও বলেন, ইরান যদি বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতা স্বীকার করতে ব্যর্থ হয় এবং ইরান সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে—এটা না বুঝলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরও ভয়াবহ হামলার সম্মুখীন হবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করায় পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, ইরান এখনও মার্কিন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে, যদিও শুরুতে তাদের প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক ছিল। লেভিট জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে। সোমবার (২৩ মার্চ) প্রেসিডেন্ট যেমনটি বলেছিলেন, আলোচনাগুলো ফলপ্রসূ হচ্ছে। পরদিন ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পুরোপুরি সঠিক নয় বলেছেন লেভিট। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। 

এদিকে তেহরান আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে ইরান একটি চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেছেন, আগ্রহ থাকলেও তেহরান এই চুক্তির কথা বলতে ভয় পাচ্ছে। কারণ, তারা মনে করছে তাদের হত্যা করা হতে পারে।

ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান পার্টির তহবিল সংগ্রহের নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে আমরা যা করছি, তা আগে কখনও কেউ দেখেনি। তারা আসলে আলোচনা করছে এবং চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী। কিন্তু তারা বলতে ভয় পাচ্ছে। কারণ, তারা মনে করছে নিজেদের লোকদের হাতে মারা যাবে। আমাদের হাতে মারা যাওয়া ভয়ও পাচ্ছে।

এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও শেষ হয়নি, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করেনি তেহরান। 

যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প সরকার পাকিস্তানে একটি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে। সেখানে যুদ্ধ শেষ করার জন্য বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। তবে এই বার্তা বিনিময় কোনো আলোচনা নয় বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।