যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে হরমুজ পাড়ি দিল চীনের জাহাজ

আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ ভঙ্গ করে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে চীনের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজ।
ফলে সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হওয়া এই অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ ট্যাংকারটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত।
মাঝারি পাল্লার এই ট্যাংকারের নাম ‘রিচ স্টারি’। ২০২৩ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ার আগে নাম ছিল ‘ফুল স্টার’। সে সময় তেহরানকে জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার অভিযোগ কালো তালিকাভুক্ত করে ওয়াশিংটন।
জাহাজটি আপাতত পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাউইয়ের পতাকার অধীনে চলাচল করছে। কিন্তু স্থলবেষ্টিত এই আফ্রিকান দেশটি বলেছে, সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই।
জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা একটি চীনা ট্যাংকার সংকীর্ণ এই প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
এলএসইজি, মেরিন ট্র্যাফিক ও কেপলারের তথ্য থেকে দেখা যায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পর রিচ স্টারিই হবে প্রথম জাহাজ, যা সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালিটি অতিক্রম করে উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাবে।
ট্যাংকারটি প্রায় ২ লাখ ৫০ জাহাজ ব্যারেল মিথানল বহন করছে। তথ্য থেকে জানা যায়, জাহাজটি সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ থেকে পণ্য বোঝাই করেছে। চীনা মালিকানাধীন ট্যাংকারটিতে চীনা নাবিকরা রয়েছেন।
সামুদ্রিক ডেটাবেস ইকুয়াসিস অনুযায়ী, রিচ স্টারি হলো ফুল স্টার শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। জাহাজটির যোগাযোগের বিবরণ সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোং লিমিটেডের যোগাযোগের বিবরণের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
মন্তব্যের জন্য সাংহাই জুয়ানরুনে যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরে ইমেইলে বার্তা পাঠানো হলেও কোম্পানিটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। সাংহাইভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার আওতায়ও রয়েছে।
অবরোধ শুরু হওয়ার মুহূর্তেই এলপিস নামের আরেকটি ট্যাংকার প্রণালিটি দিয়ে ওমান উপসাগরে প্রবেশ করে।
জাহাজ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম কেপলার ও ভর্টেক্সা জানায়, হরমুজ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টার আগে এলপিস উপসাগরের একটি ইরানি বন্দরে নোঙর করেছিল। অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রান্সপন্ডার চালু থাকা কোনো জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।
সূত্র: আলজাজিরা, এনডিটিভি, ব্লুমবার্গ