ঝড়-বৃষ্টি, পুলিশি বাধার পরও দিল্লিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

ভারী বর্ষণ, পুলিশের লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাসের মুখোমুখি হওয়ার পরও পিছু হটেননি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা। টানা বৃষ্টিতে তারা ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন। তা সত্ত্বেও রাতভর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসবাবপত্র ও মালামাল কুড়িয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আবারও নিজেদের অস্থায়ী আশ্রয় ও তাঁবু তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
দিল্লির জন্তর মন্তরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা তাঁবু গেড়ে অবস্থান করছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা শিক্ষার্থীদের কাছে এসব তাঁবুই ছিল মূল আশ্রয়স্থল।
কিন্তু সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশি অভিযানে আন্দোলনকারীদের প্রধান মঞ্চসহ তোশক, ব্যানার, ত্রিপল এবং ধাতব ফ্রেম লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
গুরগাঁও থেকে আসা ৩৫ বছর বয়সি রাজেশ পান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে সপ্তাহজুড়ে আমরা এই তাঁবুগুলো বানিয়েছিলাম। অথচ পুলিশ লাঠি দিয়ে এক মিনিটে তা গুঁড়িয়ে দিল।
অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত অস্থায়ী ডক্টরস ক্যাম্পটিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দ্য প্রিন্টকে জানান একজন চিকিৎসক। তিনি বলেন, মেঝেতে সব ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ প্রচুর সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসছেন, পানি, কলা, খাবার এবং ফার্স্ট এইড কিট সরবরাহ করছেন। ঝড়-বৃষ্টির রাতে অনেকেই মাটির ওপর সংবাদপত্র ছড়িয়ে খাবার খেয়েছেন।
অভিযানের পর সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানান, পুলিশি হামলায় অনেক আন্দোলনকারী মারাত্মক আহত হয়েছেন। তাদের জন্য ব্যান্ড-এইড, ডেটল ও ব্যথানাশক ওষুধের জরুরি প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও আলো না থাকায় পোর্টেবল টর্চ, মাইক ও ঝাড়ুর জন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সব বাধা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা তাদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সিজেপির মুখপাত্র জানান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত জন্তর মন্তরে তাদের এই প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
.png)






