ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিলের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব তেলের বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। টানা ২০ দিন ধরে চলমান এ যুদ্ধের মধ্যে হঠাৎ ইরানের তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিলের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।
মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করতে সাগরে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
বেসেন্ট বলেন, একতরফাভাবে নিজস্ব তেলের মজুত থেকেও তেল বাজারে ছাড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবগতিতেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি ছাড়তে শুরু করেছে। এটা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলমান জাহাজ থেকে টোল ও কর আদায়ের কথা ভাবছে ইরান। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেনে এ খবর জানা গেছে।
এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব নিয়ে ইরানের আইনপ্রণেতারা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য সোমায়ে রাফিই।
আইএসএনএ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের ওয়ালিআসর স্কোয়ারে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাফিই হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরানের কর্তৃত্বের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের শত্রুদের আগের সেই আরাম-আয়েশ কেড়ে নিয়েছি, এবং তারা এখন এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না। তারা স্রেফ এটি সহ্য করতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, ইনশাআল্লাহ, এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে ইরানের এক চূড়ান্ত ও নিশ্চিত বিজয়ের মাধ্যমে এবং এর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত আমাদের শত্রুদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়েই থাকবে।