logo

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে স্বাগত জানালেন বিশ্বনেতারা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে স্বাগত জানালেন বিশ্বনেতারা
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে, তুলে নেওয়া হচ্ছে নৌ অবরোধ এবং পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তিকে সংঘাত নিরসনের পথে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যেন এই নতুন গতিকে কাজে লাগিয়ে চূড়ান্ত সমাধানের জন্য আরও জোরালো প্রচেষ্টা চালায়।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেন, কাতার এই চুক্তিকে স্বাগত জানায় এবং মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ আলোচনায় সব পক্ষ ইতিবাচক ও গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে অংশ নেবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন যেকোনো উসকানি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান এবং পাকিস্তান, কাতার ও সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানান।

এদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপের বিনিময়ে তারা সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে সব পক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে দেশগুলো।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, জাপান দৃঢ়ভাবে আশা করছে যে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে দ্রুত একটি চূড়ান্ত চুক্তি হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা প্রশমন এবং সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স চুক্তিটিকে ‘যুগান্তকারী’ ও ‘গঠনমূলক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

রোববার গভীর রাতে চূড়ান্ত হওয়া এই সমঝোতা স্মারকে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানবিরোধী যুদ্ধ ও লেবাননসহ সব এলাকায় সামরিক হামলা অবিলম্বে বন্ধ হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।