সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন গালিবাফ ও ভ্যান্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে উভয় পক্ষ। সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইরানের পক্ষে দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত রাভানচি সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রধানদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে তেহরানে। বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাভানচি জানান, কূটনৈতিক অধিবেশনটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তির মূল বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই চুক্তিতে লেবাননে চলমান যুদ্ধ ও ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসান, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠন এবং ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানের সম্পদ অবমুক্তির বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চুক্তির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করে মাজিদ তাখত রাভানচি বলেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর থাকা নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়গুলোও এই চুক্তির অন্যতম অংশ। এই অঞ্চলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করা ইরানের দীর্ঘদিনের একটি দাবি। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের আগে ইতোমধ্যে দাবিগুলো আংশিকভাবে কার্যকর হতে শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরান।
তিনি জানান, ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে। তবে অনুষ্ঠানটি ঠিক কোন স্থানে হবে এবং অনুষ্ঠানটি সশরীরে হবে নাকি ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হবে—তা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।
রাভানচি আরও স্পষ্ট করে বলেন, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আরেক দফা আলোচনা শুরু হবে। এ আলোচনায় গালিবাফ এবং জেডি ভ্যান্স সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে সব ধরনের সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। ওয়াশিংটন এই সংঘাত ও শত্রুতার অবসান নিশ্চিত করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
