logo

এশীয় জলসীমায় তিনটি ইরানি জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

এশীয় জলসীমায় তিনটি ইরানি জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

এশিয়ার জলসীমা থেকে ইরানের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকার জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেগুলোকে ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী অবস্থান থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) মার্কিন নৌপরিবহন ও নিরাপত্তার চারটি সূত্র এই তথ্য রয়টার্সকে জানিয়েছে।

সূত্র ও মেরিনট্র্যাফিক প্ল্যাটফর্মের জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুসারে, জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল ইরানের পতাকাবাহী ডিপ সি সুপারট্যাংকার। জাহাজটিতে আংশিক অপরিশোধিত তেল ছিল। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে জাহাজটিকে মালয়েশিয়ার উপকূলের কাছে দেখা গিয়েছিল।

ইরানের পতাকাবাহী ছোট জাহাজ ‘সেভিন’কেও আটক করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০ লাখ ব্যারেল হলেও মোট বহনক্ষমতার ৬৫ শতাংশ জ্বালানি বহন করছিল জাহাজটি। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা থেকে জানা গেছে, জাহাজটিকে সর্বশেষ এক মাস আগে মালয়েশিয়ার উপকূলের কাছে দেখা গিয়েছিল।

ইরানের পতাকাবাহী সুপারট্যাংকার ডোরেনাকেও ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবোঝাই অবস্থায় আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। তিন দিন আগে জাহাজটির সর্বশেষ অবস্থান ছিল দক্ষিণ ভারতের উপকূলে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার এক্সে একটি পোস্টে বলেছে, অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টার পর ডোরেনা জাহাজটি ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় রয়েছে।

শিপিং সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত ইরানের পতাকাবাহী ‘দেরিয়া’ ট্যাংকারটিকে আটক করেছে। রোববার ইরানি অপরিশোধিত তেল কেনার ওপর মার্কিন ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে জাহাজটি ভারতে তার ইরানি তেলের চালান খালাস করতে ব্যর্থ হয়। মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিকে সর্বশেষ শুক্রবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

সেন্টকম বুধবার জানায়, ইরানের বন্দরে প্রবেশকারী বা বন্দর ত্যাগকারী জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী ২৯টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিতে বা বন্দরে ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের আটক করা সমস্ত জাহাজের তালিকা প্রকাশ করেনি। ডেইরা ও ডিপ সি জাহাজ দুটি সম্পর্কে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক তৃতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযান চলাকালীন ভাসমান মাইনের ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালি থেকে দূরে এবং উন্মুক্ত সমুদ্রে ইরানি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা ভাবছে।

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার প্রথম দফা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্য উপসাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার প্রায় দুই মাস পরেও এই অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতির মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।