logo

পুরোনো যুদ্ধবিমানকে অত্যাধুনিক ড্রোনে রূপান্তর করেছে চীন, ৬ ঘাঁটিতে মোতায়েন

পুরোনো যুদ্ধবিমানকে অত্যাধুনিক ড্রোনে রূপান্তর করেছে চীন, ৬ ঘাঁটিতে মোতায়েন

তাইওয়ান প্রণালির কাছে নিজেদের সামরিক শক্তি আরও জোরদার করেছে চীন। নতুন এক প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স জানাচ্ছে, দেশটি তাদের পুরোনো ও বাতিল হয়ে যাওয়া সুপারসনিক যুদ্ধবিমানগুলোকে শক্তিশালী আক্রমণকারী ড্রোনে রূপান্তর করেছে এবং অন্তত ছয়টি ঘাঁটিতে এগুলো মোতায়েন করেছে।

মিচেল ইনস্টিটিউট ফর অ্যারোস্পেস স্টাডিজের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, চীনের ফুজিয়ান ও গুয়াংডং প্রদেশের বিমানঘাঁটিগুলোতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত বিমান। এসব মূলত ১৯৬০ এর দশকের জে-৬ ফাইটার জেট, যেগুলোকে এখন ড্রোনে রূপান্তর করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এমন প্রায় ২০০ বা তার বেশি ড্রোন বর্তমানে মোতায়েন রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোনগুলোকে সাধারণ ড্রোনের চেয়ে অনেকটা ক্রুজ মিসাইলের মতো ব্যবহার করা হতে পারে। যুদ্ধের শুরুতে চীন একসাথে শত শত ড্রোন তাইওয়ানের দিকে পাঠাবে। এর মূল লক্ষ্য হবে, ইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা এবং ক্লান্ত করে ফেলা, বিপুল সংখ্যক ড্রোনের চাপে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকেজো করে দেওয়া, শত্রুপক্ষকে বাধ্য করা যাতে তারা সস্তা ড্রোনের পেছনে তাদের দামি মিসাইল খরচ করে ফেলে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে। তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের মতে, এই ড্রোনগুলো মোকাবিলা করা বেশ ব্যয়বহুল ও কঠিন। সাধারণ ছোট ড্রোন বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে এই সুপারসনিক ড্রোনগুলোকে নামানো সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন হবে অত্যন্ত দামি ও উন্নত মিসাইল।

ড্রোনে রূপান্তরিত এই জে-৬ বিমানগুলো থেকে কামান ও অন্যান্য ভারী সরঞ্জাম সরিয়ে সেখানে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তি বসানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যেকোনো সংঘাতে অভিযানের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চীন এই ড্রোনগুলো একসঙ্গে উৎক্ষেপণ করে একটি ভয়াবহ ‘আক্রমণ তরঙ্গ’ তৈরি করতে পারে।