logo

৫০ পর্যন্ত গুনতে না পারায় মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা

৫০ পর্যন্ত গুনতে না পারায় মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা

নিজের চার বছর বয়সী মেয়েকে পড়াতে বসেছিলেন কৃষ্ণ জয়সওয়াল এক যুবক। মেয়েকে গাণিতিক সংখ্যা পড়াচ্ছিলেন। এ সময় ১ থেকে ৫০ পর্যন্ত গণনা করতে বলেন। বলতেও শুরু করেছিল মেয়ে। কিন্তু কয়েকটি সংখ্যা বলার পরই সে আর এগোতে পারছিল না। পরের সংখ্যা মনে পড়ছিল না তার। এতেই রেগে যান বাবা। মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ঘটনাটি ভারতের উত্তরপ্রদেশের হরিয়ানার। মেয়েকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে কৃষ্ণ জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছিল নিহত শিশুটি।

পুলিশ জানায়, উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র জেলার বাসিন্দা কৃষ্ণ জয়সওয়াল। ফরিদাবাদে স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ফরিদাবাদে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। দুজনে পালা করে মেয়ের দেখাশোনা করতেন। ঘটনার দিন অফিসে ছিলেন কৃষ্ণের স্ত্রী। আর ওই সময় মেয়েকে দেখাশোনা করছিলেন কৃষ্ণ।

গত ২১ জানুয়ারি মেয়েকে পড়াতে বসেছিলেন কৃষ্ণ। মেয়ে ৫০ পর্যন্ত বলতে না পারায় মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। তারপর মেয়েকে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে তাকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাবার অকথ্য নির্যাতনের ফলেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

জয়সওয়াল ঘটনাটি জানাতে স্ত্রীকে ফোন করেন। তবে বানিয়ে গল্প বলেন স্ত্রীকে। জানান, তাদের মেয়ে খেলতে খেলতে সিঁড়ি থেকে পড়ে আঘাত পেয়ে মারা গেছে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছে মেয়ের শরীরে বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় জয়সওয়ালের স্ত্রীর। খবর দেন পুলিশে। পুলিশ জয়সওয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, অভিযুক্ত যুবক জানিয়েছেন যে, তার মেয়ে স্কুলে যায় না, তাই বাড়িতেই তাকে পড়ান। ৫০ পর্যন্ত গুনতে না পারার কারণে রেগে গিয়ে মেয়েকে মারধর করেন। তাদের তিন ছেলেমেয়ে। সবার ছোট ছিল পিটুনিতে মারা যাওয়া শিশুটি।