logo

যুদ্ধ-পরবর্তী জ্বালানি মানচিত্র বদলাতে চান নেতানিয়াহু

যুদ্ধ-পরবর্তী জ্বালানি মানচিত্র বদলাতে চান নেতানিয়াহু

ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য নতুন রুট গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার মতে,আরব উপদ্বীপ হয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি ইসরায়েলের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসা হলে হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন,‘তেল ও গ্যাস পাইপলাইন পশ্চিমমুখী করে আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে সরাসরি ইসরায়েলে নিয়ে আসা গেলে হরমুজের মতো সংকীর্ণ পথের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে।’

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জেরে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়,যার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালী—যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয় বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর প্রস্তাবকে সম্ভাব্য বিকল্প জ্বালানি রুট হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন,‘এই যুদ্ধের পর জ্বালানি পরিবহনের মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, টানা ২০ দিনের হামলার ফলে ইরান এখন আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রাখে না। যদিও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এই দাবির সঙ্গে একমত নন এবং জানিয়েছেন,ইরানের সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন,ইসরায়েল শুধু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিই নয়,বরং এসব তৈরির শিল্পভিত্তিক অবকাঠামোকেও ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন,চলমান সংঘাতে স্থল অভিযান যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ‘শুধু আকাশপথে নয়,স্থল পর্যায়েও পদক্ষেপের বিভিন্ন সম্ভাবনা আছে,’ বলেন তিনি,যদিও বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না, কারণ এতে আঞ্চলিক রাজনীতি, অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সমন্বয় প্রয়োজন। 

সূত্র: রয়টার্স