logo

কুয়েতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য

কুয়েতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য

উপসাগরীয় দেশ কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলার পর দেশটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মূলত এই অঞ্চলে ব্রিটিশ ও কুয়েতি স্বার্থ রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয়।

বিবিসি জানায়, কিয়ার স্টারমার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। দেশটিতে নিজেদের তৈরি অত্যাধুনিক, বহনযোগ্য ও স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা র‌্যাপিড সেন্ট্রি মোতায়েন করা হবে।

এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি মূলত ড্রোন ও ছোট আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয়। র‌্যাপিড সেন্ট্রি থ্যালেস গ্রুপের তৈরি লাইটওয়েট মাল্ট্রোল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। এর পাল্লা প্রায় ৮ কিলোমিটার।

ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে গত রাতের বেপরোয়া ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়ে তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, যুক্তরাজ্য কুয়েত ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সব মিত্রের পাশে আছে।’

তিনি আরও বলেন, র‌্যাপিড সেন্ট্রি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই অঞ্চলে কুয়েতি, ব্রিটিশ কর্মী ও স্বার্থ রক্ষা করবে এবং পরিস্থিতিকে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নেওয়া থেকে বিরত রাখবে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার একটি কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে পররাষ্ট্র সচিবের আহ্বানে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠককেও স্টারমার ও যুবরাজ স্বাগত জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলির ঘোষণার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি ঘোষণা দেন, হামলার বিরুদ্ধে কুয়েতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য একটি র‍্যাপিড সেন্ট্রি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কুয়েতে এসে পৌঁছেছে।

এর আগে, গত ৩০ মার্চ কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ইরানে কোনো সৈন্য মোতায়েনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তারা এই সংঘাতে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া থেকে দূরে থাকবেন। তিনি বলেন, এটা আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা এতে জড়াব না।

যুক্তরাজ্য তিনটি বিষয়ে ফোকাস করছে উল্লেখ করে স্টারমার বলেন, ব্রিটিশদের জীবন, ব্রিটিশ স্বার্থ এবং অবশ্যই এই অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের রক্ষা করার জন্য যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। ব্রিটেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সাহায্য করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তবে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছি না।

তবে হরমুজ প্রণালিতে হুমকির সঙ্গে যুক্ত ইরানি স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় যুক্তরাজ্য। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করেছে।