Advertisement

যেভাবে ভোট ছাড়া যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যেভাবে ভোট ছাড়া যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম
অ্যান্ডি বার্নহাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে আবারও বড় ধরনের রদবদল ঘটছে। কোনো সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই সোমবার (২০ জুলাই) ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির প্রবীণ ও জনপ্রিয় নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম। তিনি সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই জনপ্রিয় মেয়র লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে একক প্রার্থী হিসেবে পর্যাপ্ত সমর্থন পেয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি এই শীর্ষ পদে আসীন হতে চলেছেন। ব্রিটেনের সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন দলের প্রধানই দেশের প্রধানমন্ত্রী হন।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) লেবার পার্টির একটি বিশেষ সম্মেলনে অ্যান্ডি বার্নহামকে নতুন দলীয় প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দলের ৪০১ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৯ জনই তার পক্ষে সমর্থন জানান। নিয়ম অনুযায়ী, সোমবার বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। সোমবারের আগ পর্যন্ত কিয়ের স্টারমারই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

২০২৪ সালে নির্বাচনে লেবার পার্টিকে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় কিয়ের স্টারমারকে কেন সরে দাঁড়াতে হলো এবং ব্রিটেন কীভাবে ভোট ছাড়াই নতুন প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

সাধারণ নির্বাচন ছাড়া কেন এই নেতৃত্ব পরিবর্তন?

ব্রিটেনের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে। সেখানে কোনো ক্ষমতাসীন দলের প্রধান যদি মেয়াদের মাঝপথে পদত্যাগ করেন কিংবা দলীয় বিরোধের জেরে ক্ষমতা হারান, তবে নতুন সাধারণ নির্বাচন ছাড়া দল তার নতুন নেতা নির্বাচন করতে পারে। আর সেই নির্বাচিত নেতা সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালের আগে হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের দুই বছরের শাসনকাল বেশ কিছু রাজনৈতিক ভুলের কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে, প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা এক ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। এছাড়া গত মে মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর দলের ভেতরে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে।

সম্প্রতি দলটির জনপ্রিয় নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম উপ-নির্বাচনে জিতে সংসদে আসার পর স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ আরও বাড়ে এবং গত ২২ জুন তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, এক-পঞ্চমাংশ এমপির সমর্থন থাকলে নেতার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করা যায়। বার্নহামের বিপক্ষে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি সহজে দলনেতা নির্বাচিত হন।

বার্নহাম হবেন এক দশকের মধ্যে ৭ম প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে জনগণের সরাসরি ভোট ছাড়া এভাবে প্রধানমন্ত্রী হওয়া নতুন কিছু নয়। গত ১০ বছরে ব্রিটেনের যে ছয়জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের মধ্যে চারজনই এসেছেন দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে। এর আগে থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং ঋষি সুনাক—সবাই মেয়াদের মাঝপথে পূর্বসূরিদের পদত্যাগের পর কনজারভেটিভ পার্টির অভ্যন্তরীণ ভোটে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

অ্যান্ডি বার্নহাম হতে যাচ্ছেন এই এক দশকের মধ্যে ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বিদায় বা ব্রেক্সিট-পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার কারণেই দেশটিতে এত দ্রুত সরকারপ্রধানদের পরিবর্তন ঘটছে।

বিশেষ নিয়মে ক্ষমতা হস্তান্তর

ব্রিটেনে গত কয়েক বছরে ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হওয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় নিয়মটি এখন ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে খুবই চেনা। সোমবার বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার জাতির উদ্দেমে তার শেষ ভাষণ দেবেন। এরপর তিনি বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। স্টারমার প্রাসাদ থেকে বের হওয়ার পরপর সেখানে প্রবেশ করবেন নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম।

রাজকীয় প্রথা অনুযায়ী, রাজা চার্লস তাকে নতুন সরকার গঠনের অনুরোধ জানাবেন। ঐতিহাসিকভাবে এই অনুষ্ঠানকে ‘কিসিং অব হ্যান্ডস’ বলা হলেও এখন আর কেউ হাত চুম্বন করেন না, বরং রাজা ও নতুন প্রধানমন্ত্রী করমর্দন করেন। এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে অ্যান্ডি বার্নহাম হবেন ব্রিটেনের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী।

এরপর তিনি সরাসরি চলে যাবেন সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এবং সেখানে দেশের উদ্দেশে নিজের প্রথম নীতি-নির্ধারণী বক্তব্য দেবেন। পুরো রাজকীয় ও রাজনৈতিক এই প্রক্রিয়াটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং এটি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

সূত্র: এপি