মমতার দলে নজিরবিহীন ধস, ২০ এমপি নিয়ে এনডিএতে বিদ্রোহীরা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পর এবার দেশের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভাতেও নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস।
রোববার (৭ জুন) রাত থেকে সোমবার (৮ জুন) দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় নাটকীয় বৈঠকের পর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সংসদ সদস্য (এমপি) সরাসরি বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আইন মেনে স্পিকারের স্বীকৃতি মিললে, লোকসভায় এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চলেছে। এর ফলে হাতছাড়া হতে পারে দলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’-ও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে অত্যন্ত চতুর আইনি কৌশল নিয়েছেন বিদ্রোহীরা। তারা এখনই তৃণমূল ছেড়ে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না, বরং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মতো লোকসভার ভেতরেই তৈরি করছেন সম্পূর্ণ আলাদা একটি গোষ্ঠী বা ব্লক। লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন এমপির মধ্যে ২০ জন (দুই-তৃতীয়াংশের বেশি) ইতোমধ্যেই এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই সংখ্যাটা দ্রুতই ২১-এ পৌঁছাতে পারে। বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে লোকসভার মুখ্য সচেতক হিসেবে দাবি করা হয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে এবং ডেপুটি লিডার হিসেবে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে শতাব্দী রায়ের। ফলে লোকসভার দলনেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ কার্যত এখন খাদের কিনারায়।
জানা গেছে, দিল্লির বুকে গত চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে যেভাবে এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলো, তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল রোববার রাতেই। দিল্লির একটি গোপন স্থানে তৃণমূলের অন্তত ২১ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ বৈঠকে বসেন, যেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের খান, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান ও জগদীশ বর্মা বসুনিয়াসহ আরও অনেক সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যা তখনই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে বঙ্গ রাজনীতি এক নাটকীয় মোড় নিতে চলেছে।
সূত্রটির তথ্যমতে, সেই জল্পনা সত্যি করে আজ সোমবার দুপুরে দিল্লির ৯, মতিলাল নেহরু মার্গে বিজেপি সাংসদ ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে চূড়ান্ত বৈঠকে বসেন এক ডজনেরও বেশি বিদ্রোহী এমপি। সেখানেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে রণকৌশল তৈরি হয় এবং বৈঠক শেষ হতেই স্পিকার ওম বিড়লার দপ্তরে গিয়ে চিঠি জমা দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।
চিঠিতে জানানো হয়, এই ২০ জন এমপি আর তৃণমূলের সঙ্গে থাকতে চান না এবং সংসদে তাদের যেন এনডিএ ব্লকের সঙ্গেই বসার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিদ্রোহী সাংসদ শর্মিলা সরকার জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর তারা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এনডিএ শরিক হচ্ছেন এবং শতাব্দী রায় তাদের ডেপুটি লিডার।
বিজেপি সূত্রের দাবি, সব মিলিয়ে তৃণমূল সাংসদদের ৯০ শতাংশের বেশি এখন বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। আপাতত পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে এই ২০ জন এমপি আবারও বৈঠকে বসছেন এবং সেখান থেকেই তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
