ফলোয়ার নিয়ে বিপাকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, পাকিস্তান সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

যাত্রা শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে একগুচ্ছ অভিযোগও।
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতার অভিযোগ, সিজেপির সিংহভাগ ফলোয়ার ভারতীয় নয়, তারা বিদেশি। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশই পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি। আর ব্যঙ্গাত্মক দলটির প্রতিষ্ঠাতা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ‘আইএসআই-এর গুপ্তচর’।
শুক্রবার (২২ মে) ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক গত ৭২ ঘণ্টায় প্রায় ঘুমাননি।
সিজেপি ইনস্টাগ্রামে যাত্রা শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিজেপিকে ফলোয়ারের সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ ২০ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার হয়েছে। এরই মধ্যে দীপককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন।
তবে সর্বশেষ গুরুত্ব পাওয়া অভিযোগটি হলো, সিজেপির অনুসারীদের একটি বড় অংশ পাকিস্তানি। বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক তাজিন্দর বাগ্গা ও দলের মুখপাত্ররা এই অভিযোগটিকে আরও জোরালো করেছেন।
‘ককরোচ জনতা পার্টিকে’ ‘পাকিস্তান জনতা পার্টি’ আখ্যা দিয়ে বাগ্গা দলটি দেশভিত্তিক ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের তথ্য প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা যায়, দলটির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারদের মধ্যে বড় অংশই তিনটি দেশ থেকে এসেছে। মোট ফলোয়ারের ৭৭ শতাংশ পাকিস্তান (৪৯ শতাংশ), যুক্তরাষ্ট্র (১৪ শতাংশ) এবং বাংলাদেশ (১৪ শতাংশ) থেকে। মাত্র ৯ শতাংশ ফলোয়ার নিয়ে ভারত চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধীও এই তথ্যটি তুলে ধরেছেন। তিনি এক্স পোস্টে দাবি করেন, ‘যখন আপনার সবচেয়ে বড় সমর্থক গোষ্ঠী সীমান্তের ওপারে, শত্রু রাষ্ট্রে বসে থাকে, তখন আপনি আসলে কার হয়ে কথা বলছেন, সেই ভান করা হয়তো বন্ধ করার সময় এসেছে।’
এদিকে বিপুল সংখ্যক ফলোয়ার আসার বিষয়টি দেখে কিছু ব্যবহারকারী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এসব অ্যাকাউন্টের অনেক ‘বট’ হতে পারে বা বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টও হতে পারে। অবশ্য দীপকের দাবি, অল্প সময়ে সিজেপি-কে গ্রহণ করে নেওয়া জেন-জি প্রজন্মের উদ্বেগের প্রতিফলন।
অবশ্য আরেকটি মহলের দাবি, ইনস্টাগ্রামে ককরোচ জনতা পার্টির ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়লেও এক্স হ্যান্ডেলে সেই তুলনায় বৃদ্ধি দেখা যায়নি। মজার বিষয় হলো, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার ভারতে সিজেপির এক্স হ্যান্ডেলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সংস্থাটি সিজেপি-কে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ব্লক হওয়ার আগে এক্স অ্যাকাউন্টটির দুই লাখেরও বেশি ফলোয়ার ছিল। তবে ভারতের বাইরে থেকেও এটি অ্যাক্সেস করা যায়। কয়েক ঘণ্টা পর দীপক এক্সে ‘ককরোচ ইজ ব্যাক’ শিরোনামে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এটিও প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ফলোয়ার অর্জন করে। এই ফলোয়ারের তালিকায় রয়েছে মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ, গুল পানাগ ও প্রশান্ত ভূষণের মতো রাজনীতিবিদ এবং ব্যক্তিত্বরা।
ফলোয়ারদের সিংহভাগকে ‘পাকিস্তানি’ ট্যাগ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন অভিজিৎ দীপক। তিনি তার ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টে বলেন, আমি জানি আপনারা মরিয়া হয়ে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যেহেতু ব্যর্থ হয়েছেন। তাই আমি আসল তথ্যটি জানাচ্ছি। আপনারা কেন ৯৪ শতাংশ ভারতীয় তরুণ-তরুণীকে পাকিস্তানি বলবেন?
দীপকের বিরুদ্ধে পুরোনো একটি অভিযোগ আবার সামনে এসেছে। এতে বলা হচ্ছে, তিনি নাকি ‘আইএসআই-এর বেতনভুক্ত চর’। বিজেপি নেতা তাজিন্দর পাল সিং বাগ্গাসহ কয়েকজন ব্যবহারকারী লিগ্যাল রাইটস অবজারভেটরির (এলআরও) ২০১৯ সালের একটি অভিযোগ শেয়ার করেছেন।
সেই অভিযোগে বলা হয়েছিল, দীপক পাকিস্তান-সম্পর্কিত বক্তব্য ও উস্কানিমূলক বিষয়বস্তু প্রচার করেছেন। এই অভিযোগটি ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর দায়ের করা হয়েছিল।
তবে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রসঙ্গে এখনও মুখ খোলেননি দীপক।
.png)


