logo
Advertisement

গাজা নিয়ে তথ্যচিত্র বানানোয় হুমকি, প্রতিবাদ দুই শতাধিক ইসরায়েলি চলচ্চিত্রকর্মীর

আনাদোলু এজেন্সি
আনাদোলু এজেন্সি
গাজা নিয়ে তথ্যচিত্র বানানোয় হুমকি, প্রতিবাদ দুই শতাধিক ইসরায়েলি চলচ্চিত্রকর্মীর
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজেদের প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ (Naza)-র জন্য ‘স্পেশাল জুরি প্রাইজ’ হাতে ইসরায়েলি চলচ্চিত্র নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোর। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযান নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ (NAZA)-এর নির্মাতাদের সমর্থনে দুই শতাধিক ইসরায়েলি চলচ্চিত্রকর্মী একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। সোমবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

পিটিশনে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির পরিচিত চলচ্চিত্র পরিচালক আরি ফোলম্যান, শ্লোমি এলকাবেতজ, রান তাল ও মিখাল আভিয়াদ। এতে বলা হয়েছে, শিল্প ও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো যে সমাজে এগুলো বিকশিত হয়, সেই সমাজের সামনে তারই একটি প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা।

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান নিয়ে নির্মিত ‘নাজা’তে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে ছবিটি বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর এর নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে সমালোচনা ও হুমকি আরও তীব্র হয়।

ছবিটির নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‌্যাচেল সোরকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহার তথ্যচিত্রটিকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তবে ইসরায়েলি আইনে সংস্কৃতিমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে কারও নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না। এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আদালতের সম্পৃক্ততাসহ নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান ও জেডব্লিউ ফিল্মসের প্রযোজনায় নির্মিত ‘নাজা’ তথ্যচিত্রটি পরিচয় গোপন রাখা ২৪ জন ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে গাজায় নজরদারি, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং সামরিক হামলা পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্যচিত্রটির নাম ‘নাজা’ নেওয়া হয়েছে হিব্রু ভাষায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত ‘collateral damage’ বা সম্ভাব্য পার্শ্বক্ষয়ক্ষতি বোঝাতে ব্যবহৃত একটি সামরিক সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে। কোনো নির্দিষ্ট হামলায় সম্ভাব্য কতজন বেসামরিক মানুষ নিহত হতে পারেন, সেই আনুমানিক হিসাব বোঝাতেও শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

ছবিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের দাবি, গাজায় লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ব্যাপক নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। তারা এমন কয়েকটি হামলার কথাও বর্ণনা করেছেন, যেখানে বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

নির্মাতাদের ভাষ্য, তথ্যচিত্রটির উদ্দেশ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ব্যক্তিগত কোনো সেনার অসদাচরণ তুলে ধরা নয়। বরং সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক নীতি, আদেশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরনকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসাই তাদের লক্ষ্য।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তথ্যচিত্রে উত্থাপিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, সাক্ষাৎকারদাতাদের পরিচয়, পদমর্যাদা ও দায়িত্ব যাচাই করা সম্ভব নয় বলে তাদের বেনামি বক্তব্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজে থেকে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করে না। তাদের দাবি, সামরিক নীতিমালা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত মানব কর্মকর্তারাই লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং হামলার অনুমোদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

ইউভাল আব্রাহাম ও র‌্যাচেল সোর এর আগেও ফিলিস্তিনি নির্মাতা বাসেল আদরা ও হামদান বাল্লালের সঙ্গে ‘No Other Land’ তথ্যচিত্রে কাজ করেছেন। ছবিটি পরে অস্কার পুরস্কার অর্জন করে।