ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান ব্রিটেনের পার্লামেন্টে

স্বাধীন ভূখণ্ড ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের ভূমি দখলের পরিকল্পনার জেরে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্যরা (এমপি)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ভূমি দখলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে একটি জরুরি সংসদীয় প্রস্তাবকে ৭৫ জন ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা সমর্থন জানিয়েছেন।
রিচার্ড বারগনের উত্থাপিত প্রস্তাবে ফিলিস্তিনি ভূমিকে ‘রাষ্ট্রীয় ভূমি’ হিসেবে নিবন্ধন করে তা দখলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপকে অবৈধ ও অধিকৃত অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের উদ্দেশ্যে গৃহীত বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
আইনপ্রণেতারা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পরামর্শমূলক মতামতের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে এই পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবটিতে যুক্তরাজ্য সরকারকে দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে এমন যে কোনো সমর্থন বন্ধ করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে তাদের নীতিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে বসতি-সম্পর্কিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিধিনিষেধ আরোপেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, এগুলোর সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ভূমিতে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করে।
প্রস্তাবটিতে ব্রিটিশ সরকারকে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যেভাবে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে রেখেছে, সেই দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাজ্য যেন কোনো সহায়তা না করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এই দখলদারিত্ব অবৈধ, তাই ব্রিটেনের নীতিও সেই আইনের সঙ্গে মিল রেখে চলা উচিত।
এ ছাড়া দখলকৃত ভূমিতে ইসরায়েল যেসব ইহুদি বসতি গড়ে তুলেছে, সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠ ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও দাবি জানানো হয়েছে। কারণ এই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মূলত ওই ভূমিতে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে সাহায্য করছে।
আইনপ্রণেতারা একাধিক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে দখলকৃত জমিতে নির্মিত বসতিতে উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা, দখলদারিত্বকে পাকাপোক্ত করার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দের মতো লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা।