logo

বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহু ও বিরোধী জোটের অবস্থান

বিবিসি
বিবিসি
বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহু ও বিরোধী জোটের অবস্থান
ইসরায়েলের রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা উদযাপন করেছেন। ছবি: আলজাজিরা থেকে নেওয়া

ইসরায়েলের সংসদ নেসেটের ২৬তম নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে ৪৫ বছরের মধ্যে এ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই অনেকেই এই নির্বাচনকে ইসরায়েলের অস্তিত্ব নির্ধারণী নির্বাচন হিসেবে দেখছেন।

তবে চলমান ভোট শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেওয়ার বিষয় উঠে আসে বুথ ফেরত প্রাথমিক জরিপে। বিরোধী জোট এগিয়ে থাকলেও সবশেষ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট উভয় শিবিরই এখন সমান ৫১টি করে আসন পেয়ে সমানে সমান অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) নিশ্চিত করতে পারছে না।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, বুথফেরত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, বিরোধী দলগুলোর একটি জোট প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহণ। ভোট শেষ হওয়ার পরপরই প্রকাশ করা হয় বুথফেরত জরিপ বা এক্সিট পোলের ফলাফল।

সর্বশেষ বুথফেরত জরিপ করে ‘কান ১১’ ও ‘চ্যানেল ১৩ নিউজ নেটওয়ার্ক। তাদের প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ব্লকই সমান ৫৩টি করে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে চ্যানেল ১২ তাদের এক্সিট পোল সংশোধন করে জানিয়েছে, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ব্লকটি ৫০ আসনে এবং নেতানিয়াহুর ব্লক ৫২ আসনে অবস্থান করছে। এর আগে চ্যানেল ১২-এর প্রাথমিক ফলে নেতানিয়াহুবিরোধী ব্লক সামান্য এগিয়ে ছিল।

ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, নেসেটে সরকার গঠনের জন্য যেকোনো ব্লককে কমপক্ষে ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে হয়।

বিবিসি জানিয়েছে, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি থেকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আড়াই শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে, চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

রয়টার্স জানায়, ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচনে চলমান ভোট গ্রহণের মধ্যেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ব্যালট নিয়ে কারচুপি ও চুরির অভিযোগ তুলেছে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ইয়াশার। দলটির দাবি, দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে তারা এ ধরনের অনিয়মের খবর পেয়েছে।

দলটির অভিযোগ, ইয়াশারের সমর্থকদের উপস্থিতি বেশি এমন ভোটকেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে দলটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়াশার পার্টি বলেছে, এ বিষয়ে শিগগিরই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে তা জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

পোস্টে দলটি আরও বলেছে, ‘আমরা যে পরিবর্তন চাই, তা বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ কাউকে দেব না।’ তবে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

ইরানি হুমকি দূর করার ‘অনন্য সুযোগ’: নেতানিয়াহু

বিবিসি জানায়, ফল সামনে রেখে দেওয়া নিজের বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নেতানিয়াহু তার সমর্থকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ‘ইরানি হুমকি চিরতরে দূর করার’ এক ‘অনন্য সুযোগ’ ইসরায়েলের সামনে রয়েছে।

২০২৫ সালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালায়। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে আবারও যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানো হয়, যা বর্তমান চলমান সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু বা আইজেনকোট—যাদের নেতৃত্বেই কোনো জোট ক্ষমতায় আসুক না কেন, ইরান যুদ্ধে ইসরায়েলের বর্তমান অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এদিকে ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে স্টান গ্রেনেড ছুড়েছে ইসরায়েলি সেনারা।

রয়টার্স জানায়, ইসরায়েলে যখন নির্বাচন চলছিল, তখনই পশ্চিম তীরে এই বিক্ষোভ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা ও নীতিগত অবস্থান নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।