logo

গাজায় ‘মাদার্স ডে’: উৎসব নয়, শোকের দিন

গাজায় ‘মাদার্স ডে’: উৎসব নয়, শোকের দিন

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে মার্চের এই সময়টাতে পালিত হয় ‘মাদার্স ডে’—মায়েদের সম্মান জানাতে ফুল, উপহার আর ভালোবাসার এক বিশেষ দিন। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এই দিনটির অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে এটি আনন্দের নয়, বরং হারানো সন্তান আর স্বজনদের স্মরণে গভীর শোকের দিন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানা যায় গাজার মায়েদের দুঃখের কথা। সংবাদসংস্থাটির প্রতিবেদনে গাজা সিটির একটি অস্থায়ী তাঁবুতে থাকা এম রামি দাওয়াস নামক মহিলার কথা বলে যিনি তার তিন ছেলেকে ইসরায়েলের হামলায় হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের মরদেহও এখনো ফেরত পাননি তিনি। ছেলেদের জামাকাপড় আর স্মৃতির জিনিসপত্র আগলে রেখে তিনি বলেন, আগে এই দিনেই তারা তাকে ফুল, উপহার আর ভালোবাসা দিত—এখন শুধু শূন্যতা।

এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আঘাত নেমে এসেছে শিশুদের ওপর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যে দেখা গেছে, হাজার হাজার শিশু নিহত বা আহত হয়েছে, আর অসংখ্য পরিবার ভেঙে গেছে।

অনেক মা এই দিনটি কাটান কবরস্থানে, কারণ সেটাই তাদের জন্য প্রিয় সন্তানের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকার একমাত্র জায়গা। অন্যদিকে অনেক শিশু কাটাচ্ছে ‘মাদার্স ডে’ মাকে ছাড়াই।

১৪ বছর বয়সী মারাম আহমেদের গল্পও তেমনই। এক বিমান হামলায় তিনি হারিয়েছেন পুরো পরিবার। মা ছিলেন তার সবচেয়ে কাছের মানুষ।

‘অল্প টাকা দিয়েও আমি মাকে কিছু কিনে দিতাম, শুধু তাকে খুশি করার জন্য,’—বলতে বলতে চোখ ভিজে আসে তার। এখন সেই সুযোগ নেই, শুধু স্মৃতি আছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, চলমান সংঘাতে গাজার নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বাস্তুচ্যুতি, চিকিৎসা ব্যবস্থার ভেঙে পড়া, খাদ্যসংকট এবং অনিরাপদ জীবনযাপন তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বড় অংশ নারী ও শিশু। সাময়িক যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি।

তাই গাজায় ‘মাদার্স ডে’ মানে আর উৎসব নয়—এটি হয়ে উঠেছে হারানো সন্তানদের স্মরণ, ভেঙে যাওয়া পরিবারের বেদনা, আর যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতার এক নীরব সাক্ষ্য। 

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা