আলোচনায় কোন কোন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে, জানাল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় কোন কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে, তা তুলে ধরেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েল মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
রোববার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকালে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
ইসমাইল বাঘাই পোস্টে লিখেছেন, ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদলের জন্য দিনটি ছিল ব্যস্ত ও দীর্ঘ। পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতায় শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া নিবিড় আলোচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে অসংখ্য বার্তা আদান-প্রধান হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের আলোচকরা ইরানের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য তাদের সমস্ত সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান প্রয়োগ করছেন। আমাদের মহান বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রিয়জন ও স্বদেশিদের এই অপূরণীয় ক্ষতি ইরানি জাতির স্বার্থ এবং অধিকার রক্ষার জন্য আমাদের সংকল্পকে আগের চেয়ে আরও দৃঢ় করেছে।
ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে ও এই অঞ্চলে যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তিসহ প্রধান আলোচনার বিষয়গুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা, অতিরিক্ত দাবি ও বেআইনি অনুরোধ থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ মেনে নেওয়ার ওপর।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে কূটনীতি হলো ইরানের ভূমি রক্ষাকারীদের পবিত্র জিহাদের ধারাবাহিকতা। আমেরিকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা আমরা ভুলিনি, ভুলবও না। যুদ্ধের সময় তাদের ও জায়নবাদী শাসনের (ইসরায়েল) দ্বারা সংঘটিত জঘন্য অপরাধ আমরা ক্ষমা করব না।
সবশেষে এই আলোচনার আয়োজন ও এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের উদার প্রচেষ্টার জন্য আমরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সরকার এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তার এই বিবৃতির পরে ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ওয়াশিংটন। ২১ ঘণ্টার আলোচনার পর কোনো সাফল্য ছাড়াই তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগ করবে। এদিকে সমঝোতায় না পৌঁছানোর কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অযৌক্তিক দাবিকে অভিযুক্ত করেছে ইরান।
সূত্র: আলজাজিরা, গার্ডিয়ান