জনসংযোগে মোদির মুড়ি খাওয়াকে নাটক বললেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফা বিধানসভা নির্বাচনের শেষমুহূর্তে প্রচারণায় অংশ নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ প্রচারের ফাঁকেই ঝাড়গ্রামে রাস্তার পাশের একটি দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছেন তিনি। এর পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া ও গোটা ঘটনাপ্রবাহকে ‘নাটক’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তার দাবি, এসপিজিকে (প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী) দিয়েই বানানো হয়েছিল ঝালমুড়ি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বীরভূমের মুরারইয়ে সভামঞ্চ থেকে মমতা বলেন, পুরোটাই পূর্বপরিকল্পিত ও ক্যামেরার কারসাজি। তার ভাষ্য, কালকে দোকানে মাইক ফিট করে ঝালমুড়ি এসপিজিকে দিয়ে তৈরি করান। ১০ টাকা কখনও পকেটে থাকে ওনার? কত নাটক।
মমতা বলেন, নির্বাচনের সময়ে গুহাতে গিয়ে বসে থাকেন, কখনও আবার নির্বাচনের সময়ে বলেন আমি চাওয়ালা। ১০ টাকা বের করে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। সেই ঝালমুড়িটাও আবার নিজেদের তৈরি করা।
তার প্রশ্ন, যদি ঝালমুড়ির দোকান তাদের তৈরি করা না-ই হয়, তাহলে দোকানে আগে থেকে ক্যামেরা ফিট করা ছিল কীভাবে? সবই নাটক। সাধারণ মানুষ হয়তো অনেক কিছু বোঝেন না, কিন্তু আমরা বুঝি।
এর আগে, রোববার ঝাড়গ্রামের রাজকলেজ মোড়ের সভা সেরে সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ রাস্তার ধারে একটি দোকানে ঢুকে পড়েন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দোকানের মালিক বিক্রম সাউয়ের সঙ্গে কথা বলেন। সৌজন্য বিনিময় করেন। সেই দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খান তিনি। এরপর তাকে পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে দিতে দেখা যায়। সঙ্গে জনসংযোগও করেন।
দোকানদার বিক্রমের দাবি, স্যার হঠাৎ এসে বললেন, তোমার নাম কী? তারপর বললেন, একটা ঝালমুড়ি বানাও। আমি বানালাম। খেয়ে উনি বললেন দারুণ হয়েছে। শুধু মুড়ি খাওয়াই নয়, তিনি বাবা-মায়ের নাম ও ব্যবসার ব্যাপারেও খোঁজখবর নিলেন। এটা তো সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে যখন চর্চা তুঙ্গে, ঠিক তখনই পাল্টা ঝালমুড়ি খেতে ও খাওয়াতে নেমে পড়েছেন কামারহাটির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মদন মিত্র। সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী শ্রীতমা ভট্টাচার্য।
ঝালমুড়ি খেতে খেতে মদন মিত্র বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) যতবার এখানে আসবে তত আমাদের কাছে আশীর্বাদ। মোদি যতবার মুড়ির দোকানে গিয়ে নাটক করবেন, পরের দিন আমরাও সকাল থেকে মুড়ি খেতে থাকব।