logo

ফলাফলের আগে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে প্রতীক-সম্বলিত মিষ্টি

ফলাফলের আগে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে প্রতীক-সম্বলিত মিষ্টি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টির দোকানেও। দুই দফায় ২৩ ও ২৯ এপ্রিলে রাজ্যের ২৯৪ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফল ঘোষণা হবে আগামীকাল ৪ মে। জানা যাবে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার মধ্যে। তার আগে ঘাসফুল, পদ্মফুল, কাস্তে হাতুড়ি ও হাতের লড়াইয়ে সরগরম মিষ্টির দোকানের থালা। যে দল জিতবে তার প্রতীকের মিষ্টি বেশি বিক্রি হবে। কিন্তু চাহিদা আছে সব দলেরই। তাই গণনার আগেই মিষ্টির দোকানে দোকানে চলছে বড় চার দলের প্রতীক-সম্বলিত মিষ্টি বিক্রি।

রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই হাওড়ার শিবপুরের ব্যাতাইতলা এলাকায় ও একটি মিষ্টির দোকানে তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক দলের প্রতীক আঁকা ক্ষীরের সন্দেশ, যা ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কোনো মিষ্টির ওপর জোড়াফুল, কোনোটিতে পদ্মফুল, আবার কোনোটিতে কাস্তে-হাতুড়ি-তারা কিংবা হাতচিহ্ন। সবই ক্ষীর ও অর্গানিক রঙের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

নির্বাচনের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মিষ্টির দোকানদাররা নানা রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীকের আদলে বিশেষ মিষ্টি তৈরি করেছেন। কেউ ফুলের মতো দেখতে মিষ্টি দিচ্ছেন, আবার কেউ ঘাসফুল, পদ্মফুল এবং অন্যান্য নির্বাচনি প্রতীকের ছবি দেওয়া মিষ্টি বিক্রি করছেন। এই বিশেষ মিষ্টিগুলো শুধু রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যেই উৎসাহ তৈরি করছে না, সাধারণ মানুষও এগুলো কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। দোকানদাররা বলছেন, নির্বাচনের সময় এই ধরনের থিমভিত্তিক মিষ্টির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা তাদের ব্যবসাকে আরও চাঙা করে তোলে।

এই ‘ভোটের মিষ্টি’ এখন ক্রেতাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মূলত তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস; এই চারটি দলের প্রতীক দিয়েই সন্দেশ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি মিষ্টির দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা করে। ভোটের আবহে এই মিষ্টি শুধু উপহার নয়, সৌজন্য ও প্রচারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে। অনেকে নিজের দলের প্রতীকযুক্ত মিষ্টি কিনে নেতাকর্মীদের উপহার দিচ্ছেন, আবার কেউ পারিবারিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে বিভিন্ন দলের প্রতীকের মিষ্টি ভাগ করে নিচ্ছেন।

২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এই বিশেষ মিষ্টি তৈরি শুরু হয়েছে বলে জানান দোকানের মালিক সৈকত পাল। তার ভাষ্য, প্রতিবারই ভোটের আগে এই মিষ্টির চাহিদা বাড়ে। এবারও দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। ১৫ দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছি।

তিনি আরও জানান, শুধু সাধারণ মানুষই নয়, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক এবং প্রার্থীরাও এই দোকান থেকে মিষ্টি কিনছেন। প্রচারের জন্য এই বিশেষ সন্দেশ নিচ্ছেন বলে দাবি তার। শুধু ব্যাতাইতলা নয়, এই দোকানের শাখাগুলোতেও একইভাবে চলছে ‘ভোটের মিষ্টি’র বিক্রি। ভোটের উত্তেজনার মাঝেও এমন মিষ্টিমুখে এখন মিশেছে সৌহার্দ্যের স্বাদ।