logo

জেডি ভ্যান্সকে নিয়ে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে দ্বন্দ্ব?

জেডি ভ্যান্সকে নিয়ে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে দ্বন্দ্ব?

ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার সংলাপের টেবিলে ‍যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া জেডি ভ্যান্সের এবারও নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস। উভয়ের বিবৃতিতে বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে কী তাহলে খোদ প্রেসিডেন্ট ও তার কার্যালয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে তার প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছেন। তারা আগামীকাল (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন। প্রতিনিধিদলে থাকছেন তার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকভ এবং বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।

প্রথম দফার আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতেই ফেরত যেতে হয় তাকে। কারণ, ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি সম্পাদন করতে ব্যর্থ হন। সম্ভবত সেই ব্যর্থতা থেকেই এবারের আলোচনায় তাকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় কোন কোন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে, তার ‘প্রতিনিধিরা’ আগামীকাল সন্ধ্যায় সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

যদিও ভিন্ন দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও বিবিসিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় এবারও অংশ নেবেন জেডি ভ্যান্স। তার নেতৃত্বেই পাকিস্তানে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। এ ছাড়াও উইটকভ ও কুশনারও থাকবেন।

মার্কিন প্রতিনিধিদল নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তার জবাবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, ‘পরিস্থিতি বদলে গেছে।’

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট সোমবার ইসলামাবাদে পৌঁছাতে চলা মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

ট্রাম্প নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ভাইস প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ দফার আলোচনায় যোগদানের বিষয়টি অস্বীকার করলেও, এই খবরটি সামনে এসেছে। সিক্রেট সার্ভিসের নীতি সম্পর্কে অবগত সূত্রমতে, চলমান যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে শুধু ওই অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রেই নয়, বরং অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সিক্রেট সার্ভিস চায় না যে ভ্যান্স ও প্রেসিডেন্ট একই সময়ে একই স্থানে থাকুক।

যদি চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয় এবং ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সফরের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সম্ভবত ভ্যান্সকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে হবে। ভ্যান্স পাকিস্তানে গিয়ে উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা করেছিলেন। এক সপ্তাহ পর আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। তবে আগের আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি।