logo

নিহত হলে কে দেবেন ইরানের নেতৃত্ব, জানালেন খামেনি

নিহত হলে কে দেবেন ইরানের নেতৃত্ব, জানালেন খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে গত বছর জুনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় ১২ দিনের স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধের বাংকারে আশ্রয় নিয়ে প্রাণরক্ষা করেন খামেনি। দখলদার ইসরায়েলও তাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকেনি। এরপর থেকেই প্রশ্ন দেখা দেয়, হামলা বা গুপ্তহত্যার শিকার হলে কে ধরবেন পশ্চিম এশিয়ার প্রতাবশালী ইরানের নেতৃত্বের হাল।

খোদ খামেনিই এবার সেই প্রশ্নের সুরাহা করলেন। নিজ পদের জন্য উত্তরসূরি নির্ধারণ করে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর এই নেতা। শত্রু রাষ্ট্র কর্তৃক হামলা বা গুপ্তহত্যার শিকার হলে ইরানকে টিকিয়ে রাখতে দেশকে নেতৃত্বে দেবেন জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা বা গুপ্তহত্যার আশঙ্কা থাকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশকে টিকিয়ে রাখতে জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিবেদনে বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যের বরাত দেওয়া হয়েছে।

খামেনি তেহরানের শাসনব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য চার স্তরের উত্তরাধিকার নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি রাখা।

যদি তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় বা তাকে হত্যা করা হয়, সেক্ষেত্রে দায়িত্ব যাবে তার ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজনদের একটি গোষ্ঠীর হাতে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এ তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও সামরিক কমান্ডারদের কাছ থেকে পাওয়া।

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা বা শীর্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে আলী লারিজানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত আগস্টে তাকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি নিয়োগ দেওয়া হয়। মূলত এই পরিষদই দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।

২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় খামেনি সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনজনের নাম ঘোষণা করেছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে লারিজানি সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে নেই বললে চলে। কারণ, এ পদের জন্য শিয়া আলেম হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু তিনি তা নন। তবুও সংকটকালে দেশ পরিচালনার জন্য তাকে শীর্ষ প্রার্থীদের একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রগুলো সম্ভাব্য নেতা হিসেবে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির নামও উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনটিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগের কথাও বলা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নিযুক্ত মার্কিন দূত স্টিভ উইটকভ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

এরপর আরাঘচি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের অনুমতি চান। তবে পেজেশকিয়ান তাকে লারিজানির অনুমোদন নিতে বলেন, যা ইঙ্গিত দেয়, নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্তে লারিজানির ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, সংকটময় পরিস্থিতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য আংশিকভাবে লারিজানির দিকে ঝুঁকেছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও উত্তেজনা কমেনি। এটি ছিল সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর শেষ প্রচেষ্টা। খামেনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানকে ‘ধ্বংস’ করতে পারবে না।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আলোচনা গোপনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওমানের একটি সরকারি ভবনের প্রবেশপথ বন্ধ করে কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন সম্ভাব্য হামলা, নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে সামরিক উত্তেজনা ও আলোচনার ভবিষ্যতের ওপর।