logo

ইরানের হয়ে ইসরায়েলি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

ইরানের হয়ে ইসরায়েলি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

ইসরায়েলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক তৈরির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ২২ বছর বয়সি ওই যুবকের নাম আমি গাইদারভ। তিনি হাইফা শহরের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাকে কারাগারে রাখার আবেদনও জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত সংস্থাগুলোর দাবি, গাইদারভ ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতে সম্মত হন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনেটের ওপর হামলার জন্য বিস্ফোরক তৈরির পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি প্রায় ৭০ হাজার শেকেল (প্রায় ২২ হাজার ৭০০ ডলার) পারিশ্রমিক পান।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে তিনি এক ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করতেন। যার বেশিরভাগই ক্রিপ্টোকারেন্সিতে দেওয়া হতো।

তদন্তকারীরা জানান, হাইফায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে সেখানে বিস্ফোরক তৈরি করেন গাইদারভ। তিনি পুরো প্রক্রিয়া ভিডিও ও ছবিতে ধারণ করে তার নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠাতেন। এ ছাড়া তাকে হাইফা বন্দর ও উত্তর ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থানের ছবি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। এমনকি বন্দরের দিকে নজরদারির জন্য একটি ভাড়া বাসা নিয়ে সেখানে ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গাইদারভ তার কয়েকজন বন্ধুকেও বিষয়টি জানিয়ে তাদের সহায়তায় বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তারা বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষায় সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত এক বছরে ইরানের হয়ে কাজ করার সন্দেহে ডজনখানেক ইসরায়েলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, পৃথক ঘটনায় আরও চারজন সক্রিয় ইসরায়েলি সেনাকে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। 

এ ছাড়া জেরুজালেমের ২১ বছর বয়সি এক বাসিন্দার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উঠেছে, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ইরানি গোয়েন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অন্য একটি মামলায়, আদালত ও পুলিশের দোভাষী হিসেবে কাজ করা মিকদাদ মুদার হোসনি নাতুরর বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থান, হতাহতের সংখ্যা ও জনমতের তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে।