ইরাকি ড্রোন হামলায় সৌদির তেলের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত, বন্ধ কার্যক্রম

ইরাক থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেলের পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে রিয়াদ। হামলায় পাইপলাইনটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে অবস্থিত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ড্রোনগুলো ইরাক থেকে উড়ে এসেছিল বলে দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএকে জানান, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে হামলার পর পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি সরকার। তবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা না নেওয়ার অনুরোধ করায় আপাতত কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি রিয়াদ। একই সঙ্গে ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশটির ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলা বন্ধে কাজ করার কথা জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে সৌদি আরব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনগণকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তারা রাখে।
এদিকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। ইরাকের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে—এমন যে কোনো হামলার নিন্দা জানায় বাগদাদ। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের জন্য পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আবকাইক থেকে লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত এই পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব এই পাইপলাইনের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


