হরমুজ প্রণালি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন মোজতবা খামেনি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিশ্বে রপ্তানি হওয়া মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় এর বড় প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। এর ফলে গত তিন বছরের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ মোজতবা হোসাইনি খামেনি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে তার প্রথম ভাষণ সম্প্রচার করা হয়।
পশ্চিমা শত্রুদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।’
তিনি বলেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তিনি সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করতে হবে, কারণ ইরান এসব ঘাঁটিকেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির প্রায় এক হাজার ৩ শতাধিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একটি টপের্ডো অন্তত ২০০ স্কুলছাত্রীর প্রাণ কেড়ে নেয়। তাদের হত্যার প্রতিশোধ প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, ‘আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেব’।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা দেশটির সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা আক্রমণের মুখে ইরানকে নিয়ন্ত্রণ হারানো বা বিভক্ত হতে দেয়নি। আমি সাহসী যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানাই, যারা এমন এক সময়ে অসাধারণ কাজ করছেন যখন আমাদের দেশ চাপের মধ্যে এবং আক্রমণের মুখে রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম দিনের হামলাতেই নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরে ৮ মার্চ তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এরপর এই প্রথম বক্তব্য দিলেন মোজতবা খামেনি। তার রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।