logo
Advertisement

ইরানে হামলা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিতে চায় ইসরায়েল

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ইরানে হামলা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিতে চায় ইসরায়েল
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বামে) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আবারও দাউ দাউ করে জ্বলছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর ভেঙে পড়েছে যুদ্ধবিরতির সব আশা। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা জোরদার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অঞ্চলজুড়ে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। ইসরায়েল ও তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার কাঠামো দুর্বল করতে এবং শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে তৎপর।

Advertisement

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের পর তেহরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুমকি সেই শঙ্কাকে আরও উসকে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে ইরানের ওপর হামলা করতে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিতে চাইছে ইসরায়েল। এ জন্য ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা করছে তেল আবিব।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, দেশটির কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই সুযোগ পেলে ইসরায়েলও আবার ইরানের ওপর হামলায় অংশ নিত চায়। তবে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী কয়েক দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাবে।

একই ধরনের তথ্য দিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট। জেরুজালেমের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, ইসরায়েল ভবিষ্যতে আবারও হামলায় যোগ দিতে এবং যুদ্ধ পুরোপুরি শুরু করতে প্রস্তুত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি সূত্র বলেছে, ‘প্রয়োজন হলে আমরা আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত।

সূত্রটি আরও জানায়, ইসরায়েল চায় না তাদের নাগরিকদের আবার আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে হোক। কিন্তু তারা ইরানের কর্মকাণ্ডও উপেক্ষা করতে রাজি নয়। তাই প্রয়োজনে যুদ্ধের ঝুঁকি ও তার মূল্য মেনে নিতেও তারা প্রস্তুত।

অন্যদিকে, সিএনএন জানিয়েছে, কাতার ও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় তুরস্কও যুক্ত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কত দিন স্থায়ী হতে পারে, তা নিয়ে ইসরায়েল নিশ্চিত নয়। দেশটির নিরাপত্তা মহলের মূল্যায়নে সংঘাতের সময়কাল কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি নেতাদের ধারণা, ওয়াশিংটন এখনই ইসরায়েলকে এই সংঘাতে সরাসরি যুক্ত করতে চায় না। একই সঙ্গে তাদের মূল্যায়ন, বর্তমান পর্যায়ে ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলে হামলার সম্ভাবনা কম। তবু সংঘাত ইসরায়েলের দিকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সামরিক বাহিনী প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। উভয় নেতা চলমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।