নাইজেরিয়ায় একাধিক বোমা হামলা, বহু হতাহত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাইদুগুরিতে একাধিক বিস্ফোরণে কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলার পর পুলিশ তিনটি স্থানে বিস্ফোরক অপাসরণ দল মোতায়েন করেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) মাইদুগুরি বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের প্রবেশপথে এবং ডাকঘর ও সোম্বার বাজার নামে পরিচিত দুটি স্থানীয় বাজারে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, নাইজেরিয়ার জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মাইদুগুরির অপারেশন প্রধান সিরাজো আব্দুল্লাহি জানান, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সঠিক হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষদর্শী বাগোনি আলকালি জানান, তিনি নিজে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। তার মতে, শুধু জরুরি বিভাগেই দুই শতাধিক আহত চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, তিনি বাজার দুটি থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। হাসপাতালেও কিছু আহত মারা গেছেন বলে তিনি জানান এবং জরুরি ভিত্তিতে রক্তের আহ্বান জানান। তার মতে, এটি মাইদুগুরিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি।
এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে হামলাটি এমন সময়ে ঘটল যখন নাইজেরিয়া উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে জটিল নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে রয়েছে।
বোকো হারাম ও আইএসআইএল-এর সহযোগী গোষ্ঠী আইএসডব্লিউএপি এই মাসেই বোর্নোজুড়ে সেনা ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে, কয়েকজন সেনাকে হত্যা করেছে এবং অস্ত্র লুট করেছে। সোমবার ভোরে মাইদুগুরির উপকণ্ঠে সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের একটি হামলা নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী প্রতিহত করেছে বলেও জানানো হয়েছে।
বোর্নো রাজ্যের গভর্নর বাবাগানা জুলুম এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলা বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে সাম্বিসা জঙ্গলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের সঙ্গে। তিনি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘটনাটিকে ‘চরম বর্বর ও অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন। পুলিশের মুখপাত্র বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে এবং ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন।
একসময় মাইদুগুরিতে প্রায় প্রতিদিনই গুলি ও বোমা হামলা হতো। ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে হামলা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরটি তুলনামূলক শান্ত ছিল। সর্বশেষ বড় হামলা হয়েছিল ২০২১ সালে, যখন বোকো হারাম মর্টার হামলায় ১০ জনকে হত্যা করে। তবে গত ডিসেম্বরে একটি মসজিদে বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন এবং শহরের আশপাশের গ্রামাঞ্চলে সহিংসতা কখনো থামেনি।
গত সপ্তাহেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে ‘সমন্বিত হামলায়’ ১০ সেনাসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ায় সেনা পাঠানো শুরু করেছে। মোট ২০০ মার্কিন সেনা নাইজেরিয়ার বাহিনীকে প্রযুক্তিগত ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেবে বলে আফ্রিকম জানিয়েছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খ্রিস্টানদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলার পর নাইজেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ায়।