logo
Advertisement
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের শতকোটি ডলারের রিপার ড্রোন ধ্বংস করল ইরান

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের শতকোটি ডলারের রিপার ড্রোন ধ্বংস করল ইরান
এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দুই ডজনেরও বেশি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ধ্বংস করেছে ইরান। বুধবার (২০ মে) প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনগুলোর মোট বাজারমূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। এই বিশাল ক্ষতি যুক্তরোষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের যুদ্ধপূর্ব ড্রোন মজুতের প্রায় ২০ শতাংশ। এই ক্ষতি আমেরিকার সামরিক সক্ষমতায় বড় রকমের ধাক্কা বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

জেনারেল অ্যাটমিক্স কোম্পানির তৈরি এই অত্যাধুনিক ড্রোনগুলো মূলত গোয়েন্দা নজরদারি ও নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ড্রোনের ধরন ও সক্ষমতা ভেদে এগুলোর মূল্য ১৬ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সরাসরি যুক্ত এক কর্মকর্তা ব্লুমবার্গকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনগুলোর অধিকাংশই আকাশে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া বাকি ড্রোনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় মাটিতে ধ্বংস হয় কিংবা বিভিন্ন যান্ত্রিক দুর্ঘটনার শিকার হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলমান এই সংঘাতে ড্রোন ছাড়াও যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও নজরদারি বিমানসহ আমেরিকার প্রায় ৪২টি বিমান পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মোট আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ২৬০ কোটি ডলার।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধীরগতির ড্রোনগুলো বেশ দুর্বল প্রমাণিত হয়েছে। উৎপাদন সীমাবদ্ধতা এবং একাধিক যুদ্ধক্ষেত্রে উচ্চ চাহিদার কারণে এই ড্রোনগুলোর ঘাটতি পূরণ করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং।

তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন বিনিময়ের এই সংঘাত দুই পক্ষের জন্যই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি বয়ে এনেছে।

ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং পারমাণবিক সম্পর্কিত অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলার সম্মুখীন হয়েছে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সহযোগীরা তেহরানের এই অসম সক্ষমতার কারণে অপ্রত্যাশিত চাপের মুখে পড়েছে।