ভূমিকম্পে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের চিৎকার, ভিডিও ভাইরাল

তখন সকাল। ক্লাস শুরুর আগে শিশু শিক্ষার্থীরা প্রাত্যহিক সমাবেশে জড়ো হয়েছে। তা স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। শিশুদের কোলাহরে মুখর ছিল দক্ষিণ ফিলিপাইনের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সেই চিত্র বদলে যায় আতঙ্ক আর আর্তচিৎকারে।
সোমবার (৮ জুন) স্থানীয সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে বিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ পরিস্থিতি।
স্কুলের সিসিটিভি ও মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড কম্পনে ভবন দুলতে শুরু করে। বিদ্যালয় মাঠের বাইরে থাকা কিছু শিক্ষার্থী দ্রুত মাঠে ছুটে আসে। শিক্ষকরা আসেন। ভূ-কম্পনের ফলে শিক্ষার্থীদের মাছে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ে, কেউ আবার ভয়ে স্থির হয়ে যায়।
এ সময় শিক্ষক ও কর্মীরা দ্রুত শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের ভিড়ের কাছেই টিনের চালের একটি অংশ ধসে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ ফিলিপাইনে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের কম্পন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অনুভূত হয়। উপকূলীয় কয়েকটি অঞ্চলে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ধ্বংসাবশেষ পড়ে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা পরিষদ (এনডিআরআরএমসি) অনুসারে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৭ জন দক্ষিণ ফিলিপাইনের একটি পার্বত্য প্রদেশের বাসিন্দা, যেখানে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসে বাড়িঘর চাপা পড়েছে এবং বেশ কয়েকটি গ্রামীণ জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ কর্মক্ষেত্রে ছিলেন। আর শিক্ষার্থীরা ছিল বিদ্যালয়ে। ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এর প্রভাবে ফিলিপাইনের বিভিন্ন জায়গায় অনেক ভবন মাটিতে ধসে পড়েছে। যেগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সিসিটিভি ও মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওতে এই ভূমিকম্পের ভয়াবহতা দেখা গেছে।
ভূমিকম্পের প্রভাবে সড়ক যোগাযোগ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। পরবর্তী কম্পনগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
