Advertisement

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন/ইসরায়েলের ভুয়া খবরে ক্যাটারিং ট্রাকে চড়ে বিমান বদলান ট্রাম্প

ওয়াশিংটন পোস্ট
ইসরায়েলের ভুয়া খবরে ক্যাটারিং ট্রাকে চড়ে বিমান বদলান ট্রাম্প
তুরস্কে গোপনে ফ্লাইট বদল করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের চোখ ফাঁকি দেওয়ার কৌশল বা চাল হিসেবে গত ৮ জুলাই ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এ উঠেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে তুরস্কে সেই বিমানের সিঁড়ি বেড়ে ওপরে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার জন্য স্বাভাবিকভাবে তার বিমানে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সিঁড়ি বেড়ে বিমানে উঠেই লাপাত্তা হয়ে যান ট্রাম্প।

Advertisement

‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউস’ খ্যাত বোয়িং ৭৪৭ বিমানটির ভেতরে প্রবেশের পর একটি ক্যাটারিং কনটেইনারের ভেতরে লুকিয়ে গোপনে সেই বিমান থেকে বের হয়ে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তুরস্ক থেকে গোপন ফ্লাইটে নিয়ে যেতে ট্রাম্পকে এরপর একটি সামরিক উড়োজাহাজে তুলে দেওয়া হয়। কারণ, ইরান থেকে এয়ারফোর্স ওয়ানের ওপর হামলা হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য ছিল হোয়াইট হাউসের কাছে।

সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর (এনপিআর) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার সময় ট্রাম্পের বিমানের দিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য হুমকির কথা ইসরায়েলি গোয়েন্দারা মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিল।

এরপর সিক্রেট সার্ভিস গোপনে ট্রাম্পকে অন্য একটি বিমানে তুলে দেয়। তুরস্কের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও তদন্ত করে আঙ্কারায় ট্রাম্পকে হত্যার কোনো সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পায়নি বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ব্যতিক্রমী গোপন কৌশলটি ছিল কেবলই সতর্কতামূলক। কারণ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের গুপ্তহত্যার হুমকি সংক্রান্ত ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারে বেশ সন্দিহান ছিলেন।

ছদ্মবেশী বিমান ব্যবহারের খবরটি প্রথম প্রকাশের পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি সার্বিকভাবে সিক্রেট সার্ভিসের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করছিলেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই ছিলেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রুবিও বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি জানতেন। বেসেন্টও সম্ভবত বিষয়টি জানতেন বলে ধারণা করা হলেও তা নিশ্চিত নয়।

ইসরায়েলি সতর্কবার্তার সত্যতা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের সংশয় থাকা সত্ত্বেও সিক্রেট সার্ভিস অত্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় মার্কিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য ও প্রভাবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বিমান বদল ও হুমকির বিষয়টি জানতেন, তবে তিনি কেন পুরোনো বিমানে থেকে গিয়েছিলেন তা স্পষ্ট নয়। সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তার জন্য কোনো ঝুঁকি না নিয়ে অতীব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সুপরিকল্পিত বিমান বদলের আয়োজন করেছিল।

তবে কিছু মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনে করছেন, তেল আবিবের এই বার্তাটি আসল হুমকির চেয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে প্রভাবিত করার কৌশলগত উদ্দেশ্যে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।