মার্কিন রণতরী প্রতিরোধে সামরিক মহড়ার ঘোষণা ইরানের

ইরান ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই উত্তেজনার পারদ উঠছে। হুমকি-ধমকির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরোধ করতে এবার হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটেম) জারি করেছে দেশটির সরকার। সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে সরাসরি গুলি চালাবে ইরানি সেনারা। খবর এএফপি, রয়টার্সের।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিমান চলাচলসংক্রান্ত সতর্কবার্তায় জানানো হয়, ২৭ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর আশপাশে পাঁচ নটিক্যাল মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে ‘লাইভ-ফায়ার’ মহড়া চালাবে ইরানি বাহিনী। নির্ধারিত এই এলাকায় ভূমি থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত আকাশসীমাকে সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ ও বিপজ্জনক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে সবরাহ হয়। ফলে এখানে যে কোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা বা বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তোলে।
এ সময়ই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকোম) তাদের দায়িত্বাধীন অঞ্চলে বহুদিনব্যাপী প্রস্তুতিমূলক মহড়া শুরুর কথা জানিয়েছে। এই মহড়ার লক্ষ্য দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতি প্রদর্শন।
ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে মোকাবিলার ক্ষেত্রে সব ধরনের বিকল্প (সামরিক পদক্ষেপসহ) এখনও বিবেচনায় রয়েছে। ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে তৎপরতা জোরদার করছে।
এর জবাবে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে, যে কোনো আক্রমণের মুখে তারা ‘দ্রুত ও ব্যাপক’ প্রতিক্রিয়া জানাবে।
লাইভ-ফায়ার মহড়ার সময় এই অঞ্চলের আকাশসীমা দিয়ে বেসামরিক ও সামরিক বিমান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত এ ধরনের সামরিক অনুশীলনের আগে নোটাম জারি করে পাইলট ও বিমান সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সাময়িক আকাশসীমা বন্ধের বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এসব যুদ্ধজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের আওতাভুক্ত।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তৃতায় বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইরানের দিকে আরেকটি সুন্দর নৌবহর এগিয়ে যাচ্ছে। আমি আশা করি, তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে।’
ইরানে বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পরই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকলে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ কমে এসেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনাও নেই।