logo

ভারতের ‘র’ ও কট্টরপন্থি আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

ভারতের ‘র’ ও কট্টরপন্থি আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র) ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) ওপর নিষেধাজ্ঞ আরোপের সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন ও অধিকার খর্বের অভিযোগ। সোমবার (১৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস টুডে।

সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউএসসিআইআরএফ বলেছ, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘনের দায় এড়াতে’ না পারার জন্য এই সংস্থাগুলোকে শাস্তি দেওয়া উচিত। শাস্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার সম্পদ জব্দ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের (আইএফআরএ) আওতায় পদ্ধতিগত ও গুরুতর ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে এই সুপারিশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে মার্কিন সহায়তা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নীতিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার উন্নতির সঙ্গে যুক্ত করার সুপারিশও করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার হাল ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও তাদের উপাসনালয় হামলার শিকার হচ্ছে। এ জন্য ভারতের সরকারই দায়ী। বিভিন্ন রাজ্যে জবরদস্তি ধর্মান্তর ঠেকাতে কঠোর আইন তৈরি করা হচ্ছে। বহু নাগরিককে বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নাগরিকদের বেআইনিভাবে বহিষ্কার করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে নজরদারির নামে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে।

পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গে এতে বলা হয়েছে, এই ঘটনা ভারতে মুসলিমবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র করে তুলেছে। উত্তর প্রদেশে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা কাশ্মীর হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলে এক মুসলিম রেস্তোরাঁ কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে। ভারত সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে তাদের বহিষ্কারকে ন্যায্যতা দিতে এই হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যবহার করেছে।

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, ভারত সরকার ১৫ খ্রিস্টানসহ প্রায় ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়ে গেছে। তাদের লাইফ জ্যাকেট ছাড়া বার্মিজ উপকূলের দিকে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

ওয়াকফ সংশোধনী বিলেরও সমালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এই আইনে মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের মতো মুসলিম-মালিকানাধীন সম্পত্তি পরিচালনার বোর্ডে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করা করেছে।

ধর্মান্তর বিরোধী কঠোর আইন আনার জন্য মহারাষ্ট্র, আসাম, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান ও ছত্তিশগড় সরকারেরও সমালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্র ধর্মান্তর রোধে কঠোর আইন আনার পরিকল্পনা করেছে, ছত্তিশগড় বিশ্বাস নিরাময় সভাগুলো বন্ধে নতুন আইনের ঘোষণা দিয়েছে। আসাম তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ রোধে আইন করার কথা জানিয়েছে।

এছাড়া ২০২০ সালের সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভে জড়িত উমর খালিদ, শারজিল ইমামসহ আরও কয়েকজনের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তারা পাঁচ বছর ধরে কোনো বিচার ছাড়াই কারাগারে আটক রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও তাদের পক্ষে সোচ্চার ব্যক্তিদের কারাবন্দি করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে ইউএসসিআইআরএফের সুপারিশের পর দিনই আরএসএসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস। সোমবার (১৬ মার্চ) এক্সে কংগ্রেস লিখেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।’