ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, দেখা যাক কী হয়: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরি মোতায়েনের ঘটনাকে ইরানে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি হিসেবে গণ্য করছেন পর্যবেক্ষকরা। এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন। এ জন্য ইরানে হামলার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন এসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারার আশঙ্কাও দৃঢ় হচ্ছে।
তবে এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে তার প্রশাসন উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে তাদের পরিকল্পনা ভাগ করে নেয়নি। ট্রাম্পের দাবি, তার সরকার ইরানের বিরুদ্ধে কী পরিকল্পনা নিচ্ছে তা সবাইকে বলতে পারবে না, কারণ এটি গোপনীয় পরিকল্পনা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের (ইরান) পরিকল্পনাটি বলতে পারছি না। পরিকল্পনাটির মূল কথা হচ্ছে, ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং আমরা দেখব আমরা কিছু করতে পারি কি না, না হলে কী হবে।’
এর আগে এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন থেকে একটি ‘বড় নৌবহর’ এ অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে, যা ভেনেজুয়েলায় মোতায়েন করা বাহিনীর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করেছিল, তার আগেও বেশি শক্তি মোতায়েন করা হয়েছিল।
আনাদোলু বলছে, ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরানের সঙ্গে এখনো আলোচনা চলছে, তবে তা কী ফল দেবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তিনি জানান, ‘গতবার যখন তারা আলোচনায় বসেছিল, তখন আমাদের তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাতে হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। এরপর আমরা অন্যভাবে এটি সরিয়ে দিয়েছি, এবং দেখা যাক এবার কী হয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময় এসেছে যখন মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা ও আলোচনার মাঝে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক ইস্যু ও রাজনৈতিক চাপ নিয়েও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখছে।