ইরানে হামলার ঘটনায় চীনের উদ্বেগ, এখনই যুদ্ধবিরতির আহ্বান

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। স্থানীয় সময় শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে সব পক্ষকে উত্তেজনা পরিহার করে আলোচনা ও সংলাপের পথে থাকার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সবারই সম্মান করা উচিত।’
এদিকে ইসরায়েলে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অথবা সীমান্ত পার হয়ে মিসরে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইসরায়েলে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। পাশাপাশি ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদেরও যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ অবস্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস।
এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং বলেছেন, ‘ইরানজুড়ে চালানো হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার খবর বেইজিংকে গভীরভাবে শঙ্কিত করেছে। সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক যে রেড লাইন রয়েছে, তা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।’
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আরও বিস্তার রোধে অবিলম্বে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে চীন। ফু কং বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। এই মুহূর্তে উত্তেজনা প্রশমন না করলে এর ফল হবে ভয়াবহ। চীন মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। বেইজিং মনে করে, সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সংকট সমাধান করা উচিত।’
গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সে সময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতির দাবি করে পেন্টাগন। ১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত্তি সৃষ্টি করে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলছে, অন্যদিকে চীন সতর্ক করছে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিকে চিরতরে বিঘ্নিত করতে পারে। এরই মধ্যে ইরানের আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবরের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।