logo

হরমুজে নজরদারি বিমান ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল পাঠাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

হরমুজে নজরদারি বিমান ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল পাঠাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া
ওমানের খাসাব উপকূলের অদূরে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি নোঙর করা ছোট নৌকা ও জলযান। ছবি: এএফপি

হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি জলসীমায় সামুদ্রিক টহল বিমান ও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল (ইওডি) মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ সচল রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ইরান যুদ্ধের সামরিক হস্তক্ষেপে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়া সেনা পাঠাবে না বলে আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষায় কাজ করতে চায় সিউল। খবর এএফপির।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সোমালিয়ার উপকূলে এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজকে জলদস্যুদের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে নিয়োজিত দেশটির ‘চেওংহে’ নৌ ইউনিটের কার্যক্রমের আওতা হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি জলসীমা পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।

ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে একটি ডেস্ট্রয়ার, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল, চালকবিহীন জলযান, চালকবিহীন ডুবোযান এবং পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য দূরনিয়ন্ত্রিত যান (আরওভি) মোতায়েন করা হবে।

বর্তমানে চেওংহে ইউনিটের কার্যক্রমের অনুমোদন চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত রয়েছে। এর মেয়াদ ও কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে হলে দেশটির সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে ইয়োনহাপ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘চেওংহে ইউনিটের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য হলো আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা।’

তিনি জানান, এই অতিরিক্ত মোতায়েন সম্পূর্ণভাবে অ-যুদ্ধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ইউনিটটি মিত্র বাহিনীর বাইরে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ওমানের দক্ষিণে উন্মুক্ত জলসীমার মধ্যেই তাদের অভিযান সীমাবদ্ধ থাকবে। দায়িত্ব পালনের সময় সামুদ্রিক টহল বিমানকে ইরানের ভূখণ্ড, আঞ্চলিক জলসীমা কিংবা হরমুজ প্রণালির অভ্যন্তরে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে নজরদারি বা পর্যবেক্ষণ চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং পুনর্ব্যক্ত করেন, সামরিক হস্তক্ষেপের দিকে নিয়ে যেতে পারে, এমন কোনো উপায়ে তার দেশ যুদ্ধে সেনা পাঠাবে না।

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা যুদ্ধে জড়িত না হওয়া এবং হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করেছি। ভবিষ্যতেও আমরা এই নীতি বজায় রাখব।’

এদিকে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনার কথা জানানো হলে তেহরান সিউলকে এ ধরনের মোতায়েনের বিষয়ে সতর্ক করেছিল।